জীন থেরাপি – চিকিৎসা বিজ্ঞানের শেষ অধ্যায়

কাওকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে তার কাছে সবথেকে মূল্যবান জিনিস কি, সে যদি নিতান্তই বোকা না হয়ে থাকে তাহলে বলবে যে তার “জীবন”। এটাই মনে হয় জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা। সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ ভেবেএসেছে যে কিভাবে সে এই প্রকৃতিতে বেশি দিন টিকে থাকবে, ভালভাবেটিকে থাকবে, বেশি দিন বেঁচে থাকবে। শুধু মানুষই নয়, আসলে এটাই যেন প্রতিটা জীবের চিরন্তন আশা-আকাঙ্খা। এর প্রধান কারণ সম্ভবত, আপাত দৃষ্টিতে প্রকৃতি কাওকেই অফুরন্ত সময় দেয়নি বেঁচে থাকার জন্য। তাতে আবার বিভিন্ন প্রকার রোগ-বালাই প্রকৃতির এই কাজটা আরও সহজ করে দিচ্ছে যেন দিন কেদিন। যত দিন যাচ্ছে, ততই বিভিন্ন প্রকার রোগের উদ্ভব হচ্ছে এবং সবথেকে কঠিন সত্য হচ্ছে রোগগুলো আরও কঠিনতর হচ্ছে। ভাবটা এমন যেন, রোগেরও ঘিলু (Brain) জিনিসটা আছে তাই তারা বুঝে শুনে নীরবে আমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে। আজ যে অসুখটার প্রতিষেধক বের হয়েছে, কাল আবার এই রোগটি অন্যভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। তাই আমাদেরও তাদের মত করে ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে বাপরিবর্তন করে পাল্লা দিতে হচ্ছে কিন্তু এভাবে আর কতদিন! প্রতিনিয়ত চলছে মানুষ এরসাথে এইসব রোগ-বালাই এর যুদ্ধ কিন্তু এর তো একটা শেষ থাকা প্রয়োজন এবং সেই সময়টা সম্ভবত এসে গেছে। এই নিয়েই আজকের লেখা।

জীন থেরাপি কি?

প্রত্যেকটা জীবদেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে তৈরি এবং প্রত্যেকটা কোষ নির্দিষ্ট ওসমপরিমান জীন বহন করে। জীনগুলো কোষের ভিতরে খুব সুক্ষভাবে কাজ করে। একটি জীবেরবৃদ্ধি ও পরিস্ফুরনের সময় উক্ত জীনসমূহ প্রতিটি পৃথকভাবে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যপ্রকাশে বাধ্য থাকে। জীনগুলো এসব বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায় বিভিন্ন প্রকার প্রোটিনউৎপাদনের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন হল যদি এইসব জীনে কোন ত্রুটি থাকে তাহলে কি হতেপারে! সহজেই অনুমেয়, ত্রুটিপুর্ণ জীন দ্বারা উৎপাদিত প্রোটিনওত্রুটি যুক্ত হবে এবং ফলাফল হিসাবে এর প্রভাব পড়বে বৈশিষ্ট্য প্রকাশে। এভাবে জীনেরপরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন প্রকার জীনগত রোগের সৃষ্টি হতে পারে। জীন থেরাপি আসলে একধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার বংশগত বা জীনগত রোগ নিরাময় করাহয়। অন্যভাবে বললে জীন প্রকৌশলের (Genetic Engineering) মাধ্যমে মানুষের ত্রুটিপুর্ণ কোন জীনকে স্বাভাবিক জীনদ্বারা প্রতিস্থাপন করাকে জীন থেরাপি (Gene Therapy) বলে। এ প্রক্রিয়ায় রোগের জন্য দায়ী জীনটা বাদ দেয়া হয় অথবা সেটাকে একটা ভাল জীনদ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। আর ঠিক এ কারণেই জীন থেরাপি খুবই নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা। জীন থেরাপি সাধারন রোগ নিরাময় পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কারণ বিভিন্ন প্রকারওষুধ প্রয়োগে শুধু রোগের লক্ষণ ও বাহ্যিক সমস্যা গুলো কমে যায় কিন্তু অসুখটিপুরাপুরি নিরাময় হয়না, যে কারণে পরে আবার রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।কিন্তু জীন থেরাপির মাধ্যমে নির্দিষ্ট রোগের জন্য দায়ী ত্রুটিপুর্ণ জীন গুলিকেভালো জীন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। যাতে করে ক্ষতিকর প্রোটিনের স্থলে শরীর সঠিকএনজাইম (Enzyme) বা প্রোটিন (Protein) উৎপাদনে সক্ষম হয়। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে এই চিকিৎসা পদ্ধতির পার্থক্যহলো জীন থেরাপির মাধ্যমে শুধু রোগের উপশমই করা হয় না জীনের বৈশিষ্ট্যগত ত্রুটি দূরকরে একে সমূলে নিবারণ করা হয়।

১৯৯০ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আশান্তিদেসিল্ভা  নামের ৪ বছরের এক বালিকার উপরে সর্বপ্রথমজীন থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। দেসিল্ভার শরীর জন্মগত ভাবে এডেনোসিন ডিএমাইনেজ (AdenosineDeaminase) তৈরিতে অক্ষম ছিল যাদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অতীব জরুরী। দেসিল্ভার দেহে জীন থেরাপির সফলপ্রয়োগ হয়েছিল তবে ফলাফল স্থায়ী হয়নি। বর্তমানকালে জীন থেরাপি কয়েকটি রোগের ক্ষেত্রে বেশ ভালো ফলাফল দিয়েছে যদিওএখনো তা গবেষণার আওতাধীন, সেগুলো হলঃ সিস্টিক ফাইব্রোসিস (CysticFibrosis), ক্যান্সার (Cancer), এইডস (AIDS), সিকেল সেল অ্যানেমিয়া (Sickle Cell Anemia), অস্টিওপরেসিস (Osteoporosis), হিমোফিলিয়া (Hemophilia), পারকিনসন্স ডিজিজ (Parkinson’s Disease) ইত্যাদি।

জীন থেরাপির প্রকারভেদ

কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে জীন থেরাপি প্রধানত দুইভাবে ভাগ করা যায়ঃ দেহকোষ জীনথেরাপি (Somatic Cell Gene Therapy) এবং জননকোষ জীন থেরাপি (Germline Gene Therapy)।

দেহকোষ জীন থেরাপিঃ  নাম থেকেই অনুমান করা কঠিন নয় যে এই জীন থেরাপি দেওয়া হয় দেহকোষে (Somatic Cell)। অর্থাৎ,জীন থেরাপি যখন দেহকোষের ক্রোমোজোমে দেওয়া হয় তখন সেটাকে দেহকোষ জীন থেরাপি বলা হয়। দেহকোষ জীন থেরাপিতে রক্ত কোষ বা ত্বকের কোষ জাতীয় শরীরের কোষে পরিবর্তন আনা হয়। এইপদ্ধতিতে শরীর থেকে কোষ সংগ্রহ করে তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে তাকে আবার শরীরেপ্রতিস্থাপন করা হয় অথবা শরীরে অবস্থিত কোষেই সরাসরি পরিবর্তন আনা হয়।হ্যামোফিলিয়া (Hemophilia) বা থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) রোগের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতিতে কয়েক বিলিয়ন সংখ্যক হাড়েরকোষ সংগ্রহ করা হয়। তারপর তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে তাকে আবার শরীরেপ্রতিস্থাপন করা হয়। এতে নতুন করে যেসব রক্ত কোষ তৈরি হয় তাতে পরিবর্তিত জীনেরবৈশিষ্ট্য গুলো প্রকাশ পায়। দেহকোষ জীন থেরাপির মাধ্যমে কৃত পরিবর্তন গুলোশুধুমাত্র রোগীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, বংশগতির ধারাকেপ্রভাবিত করে না। অর্থাৎ, পরবর্তি বংশধরে রোগটি আবার ফিরে আসতে পারে।

জননকোষ জীন থেরাপিঃ  অনুরূপ ভাবে, জীন থেরাপিতে যখন জননকোষ ব্যবহার করা হয়তখন সেটাকে জননকোষ (Germ Cell) জীন থেরাপি বলা হয়। জননকোষ জীন থেরাপিতে জননকোষ দুটিকে স্বাভাবিকভাবেই নিষিক্তহতে দেওয়া হয় তারপর নিষিক্ত ডিম্বাণুতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে তাকে আবারমাতৃগর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। অতঃপর এই নিষিক্ত ডিম্বাণুটি যে ভ্রূণ গঠন করবে তারসমস্ত কোষে উক্ত ভাবে পরিবর্তিত জীনটি ছড়িয়ে যাবে ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিসফল হলে নবজাতকের সমস্ত কোষে পরিবর্তিত জীনটি উপস্থিত থাকে এবং প্রয়োজনীয় কার্যসম্পাদনে সক্ষম হয়, কারণ আমরা জানি নিষেকের ফলে উৎপন্নডিপ্লয়েড (2n) এককোষী কোষ থেকেই কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পূর্ন প্রাণীটি বিকশিত হয়। ধারণা করাহয় জননকোষ জীন থেরাপির মাধ্যমে সকল বংশগত রোগ (GeneticDisease) পুরোপুরি ভাবে বিতাড়িতকরা সম্ভব এবং এই প্রক্রিয়ায় করা পরিবর্তন পরবর্তি বংশধরে স্থানান্তরিত হয় তাইরোগের পুনরায় ফিরে আশার সম্ভাবনা নাই। আর তাই এই ধরনের পরিবর্তন চিরস্থায়ী এবংবংশগতির ধারাকে সরাসরি প্রভাবিত ও পরিবর্তন করে।

আবার কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে জীন থেরাপি কে প্রধানত দুই ভাবে ভাগ করা যায়।নিচে উভয় পদ্ধতিতে সম্পর্কে সামান্য বর্ণনা দেওয়া হলঃ এক্স ভিভো (Ex Vivo) এবং ইন ভিভো (In Vivo)।

এক্সভিভো জীন থেরাপিঃ এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে দায়ী জীনধারণকারী কোষ বা টিস্যুটিকে কেটে বাহিরে আনা হয়, এবং গবেষণাগারে উপযুক্ত পরিবেশে এই কোষের উপর জীন থেরাপি দেওয়া হয়। ফলাফলভালো হলে কোষ বা টিস্যুটিকে পুনরায় দেহে স্থাপন করা হয়। এক্ষেত্রে সাধারণতনন-ভাইরাল বাহক ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিটি সর্বাপেক্ষা উত্তম কিন্তু যথেষ্টজটিলতা এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ইনভিভো জীন থেরাপিঃ এই প্রক্রিয়ায় কোষ দেহে থাকাঅবস্থাতেই থেরাপি দিতে হয়। এক্ষেত্রে জীনটি সরাসরি রোগীর দেহে প্রবেশ করাতে হয় এবংতা প্রকাশের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখতে হয়। বাহক হিসাবে ইনভিভো জীন থেরাপিতেবিভিন্ন প্রকার ভাইরাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

জীন থেরাপির মুল প্রক্রিয়া

ক্ষতিকর জীনটি ভালো জীন দিয়ে প্রতিস্থাপন করাই জীন থেরাপির মুল কাজ কিন্তু এটিতো মুখে বললেই হয়ে যাবেনা, এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি। তবে রিসেসিভ (Recessive) জীনের ক্ষেত্রে শুধু জীনটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসালেই হয়কিন্তু ডমিন্যান্ট (Dominant) জীনের ক্ষেত্রে শুধু খারাপ জীনটির প্রতিস্থাপনই শেষ নয়, বরং পাশাপাশি জীনটিজিনোম থেকে পুরোপুরি অপসারণ করতে হয় বা অকার্যকর করতে হয়। এখন কাজ হল, ত্রুটিপুর্ণজীনটির স্থলে কাঙ্ক্ষিত ভালো জীনটির প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে সেটি নিউক্লিয়াসেঅনুপ্রবেশ করানো এবং ক্রোমোজোমের (Chromosome) সাথে সংযুক্তকরন। এটাকরার জন্য প্রধানত বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস (Virus) ব্যবহার করা হয় যাদের কে বাহক (Vector or Carrier) বলা হয়। ভাইরাস রোগসৃষ্টি করে তাই বাহক হিসাবে ব্যবহারিত ভাইরাসটির যে জীনটি ক্ষতিকর সেটারি-ইঞ্জিনিয়ারিং (Recombinant DNA Technology) করে বাদ দেওয়া হয় তবে স্বাভাবিক আক্রমণের ক্ষমতা অটুট রাখা হয় এবং কাংক্ষিতভালো জীনটি বাহকের জিনোমের সাথে যোগ করা হয়। অতঃপর ভাইরাসটিকে রোগীর দেহেঅনুপ্রবেশ করানো হয়। এরপর ভাইরাসটি তার নিজস্ব ক্ষমতায় বা প্রক্রিয়ায় টার্গেটকোষকে আক্রমণ করে এবং তার জিনোমটি কোষের নিউক্লিয়ার ক্রোমোজোমের সাথে সংযোজন করেঅথবা কোষে স্বাধীন ভাবে অবস্থান করে জীনের প্রকাশ ঘটায়। এক্ষেত্রে ভাইরাস দিয়ে শুধু মাত্র সেই সকল কোষগুলো কে আক্রান্ত করা হয় যা রোগেরজন্য দায়ী যেমন ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন তৈরি করা জীনটিতে ত্রুটি থাকারফলে ঠিক মতো তৈরি হয়না বা ইনসুলিনের রাসায়নিক কাঠামো (Chemical Structure) পরিবর্তনের কারণে ঠিকঠাক কাজ করেনা। ইনসুলিন তৈরি করেঅগ্ন্যাশয়ের ল্যঙ্গারহান্স কোষ গুচ্ছের বেটা-কোষসমূহ। সুতরাং, এক্ষেত্রে শুধুমাত্র বেটা কোষ গুলোকে জীন থেরাপি দিলেই সঠিক ইনসুলিনতৈরি হবে এবং ডায়াবেটিস রোগ নিরাময় হবে। এখানে একটি ব্যাপারে একটু বিস্তারিত নালিখলেই নয় তা হল জীন থেরাপিতে ব্যবহারিত বাহক। বাহক ভাইরাল বা নন-ভাইরাল দুই রকমইহতে পারে তবে বেশীরভাগ সময় ভাইরাসকেই ব্যবহার করা হয় কারণ ভাইরাস প্রাকৃতিক ভাবেইতাদের জীন মানবদেহে সংযোজন করতে পারে এবং বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের এই ক্ষমতাই কাজেলাগান। সাধারণত তিন ধরনের ভাইরাস কে জীন থেরাপিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যথাঃরেট্রোভাইরাস (Retrovirus), এডিনোভাইরাস (Adenovirus), এবং এডিনো-এসোসিয়েটেড ভাইরাস (Adeno-Associated Virus)। এদের অল্প বিস্তার বর্ণনা নিচে দেওয়া হল।

রেট্রোভাইরাসঃ  বিজ্ঞানিরা সর্বপ্রথম জীনথেরাপির কাজে রেট্রোভাইরাস ব্যবহার করেন। এটি এক প্রকার আরএনএ ভাইরাস তাইএক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা কাঙ্ক্ষিত ভালো জীনটির আরএনএ প্রতিলিপিটি সুনির্দিষ্টপ্রমোটার সহ (প্রমোটার হল এক বিশেষ ধরনের জীন যা একটি নির্দিষ্ট জীনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশেসুইচ হিসাবে কাজ করে যা নির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগের দ্বারা চালু বা বন্ধ করা হয়)ভাইরাস জিনোমের সাথে যুক্ত করেন। রেট্রোভাইরাস কোষে প্রবেশের পর রিভার্সট্রান্সক্রিপ্টেজ (Reverse Transcriptase) নামক এক ধরনের এনজাইম নিঃসরণ করে যা তাদের আরএনএ জিনোমের অনুরূপ একটি ডিএনএতৈরি করে এবং নতুন তৈরিকৃত ডিএনএ কে ইন্টিগ্রেজ (Integrase) এনজাইমের সহায়তায় পোষক কোষের নিউক্লিয়ার ক্রোমোজোমের সাথে যুক্ত করে। তবে এই ভাইরাসের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যেমন এটি খুব নিখুঁতভাবে কোষের ক্রোমোজোমের উপর কাজ করতে পারেনা তাই ভালো কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কিছুসম্ভাবনা থেকেই যায় যে কারণে রেট্রোভাইরাসের ক্ষেত্রে এক্সভিভো (Ex Vivo) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

এডিনোভাইরাসঃ কোষের নির্দিষ্ট জায়গায় জীন প্রতিস্থাপন না করতে পারলে অনেকপ্রকার সমস্যা তৈরি হয়। এ সমস্যা থেকে বাচার জন্য বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাস ব্যবহারকরে থাকেন। এই ভাইরাস দ্বারা পরিবাহিত জীনটি নিউক্লিয়ার ক্রোমোজোমের সাথে যুক্তহয়না বরং স্বাধীন ভাবে কোষে অবস্থান করে এবং ট্রান্সক্রিপ্শনের মাধ্যমে সঠিকপ্রোটিন তৈরি করে। তবে এক্ষেত্রে জীনের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়না তাই এটি নতুন জন্মানোকোষগুলোতে পুনরায় দেওয়ার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে, যকৃত ও জরায়ু ক্যান্সারের জীনথেরাপিতে এই ভাইরাস ব্যবহারিত হয়।

এডিনো-এসোসিয়েটেড ভাইরাসঃ এই ভাইরাস সবথেকে কার্যকর কারণ এটিবিভাজনরত এবং অবিভাজনরত সব ধরনের কোষকেই আক্রান্ত করতে পারে উপরন্তু এই ভাইরাসটিমানবদেহে পাওয়া যায় তাই এটি দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোন প্রভাব ফেলেনা। সবথেকেগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল এটি ১৯ নাম্বার ক্রোমোজোমের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জীনসংযুক্ত করতে পারে। মানবদেহের হিমোফিলিয়া রোগের চিকিৎসায় এটিকে ব্যবহার করার চেষ্টাচলছে। তবে এটিও সমস্যার ঊর্ধে নয় কারণ এটি এতই ক্ষুদ্র যে প্রাকৃতিকভাবে মাত্রদুইটি জীন বহন করতে পারে।

ভাইরাস ছাড়াও কোষে জীন ট্রান্সফারের অন্য উপায়গুলো হলঃ নগ্ন বা প্লাজমিড ডিএনএইনজেকশন (Naked DNA Injection), জীন গান (Gene Gun), ইলেক্ট্রোপোরেশন(Electroporation),ম্যগ্নেটোফেকশন (Magnetofection), সনোপোরেশন (Sonoporation) ইত্যাদি। প্লাজমিড (বৃত্তাকারব্যক্টেরিয়াল ক্রোমোজোম) ডিএনএ ইনজেকশন পদ্ধতিতে প্রথমেপ্লাজমিডে (Plasmid) কাঙ্ক্ষিত জীনটি যুক্ত করা হয় তারপর সেটিকে কোষের কাছাকাছি রাখা হয় যাতে কোষতার স্বাভাবিক নিয়মে অন্যকিছুর সাথে সাথে প্লাজমিডটাও ভিতরে টেনে নেয়। এক্ষেত্রেকোষের কতৃক প্লাজমিড গ্রহণের হার খুব কম। অন্যান্য পদ্ধতিগুলোও প্রায় একই রকম শুধুবাড়তি কিছু প্রক্রিয়া যোগ করা হয়েছে কোষ কতৃক প্লাজমিড ডিএনএ গ্রহণের হার বাড়ানোরজন্য। যেমন, ইলেক্ট্রোপরেশনে কোষের সুক্ষ্মছিদ্র গুলো একটু বড় করার জন্য ইলেকট্রিক ভোল্ট বা ইলেকট্রিক শকপ্রদান করা হয় যাতে প্লাজমিডটি সহজে কোষে প্রবেশ করতে পারে।জীন গানের ক্ষেত্রে, জীনকে ধাক্কা দিয়ে কোষের ভিতরে প্রবেশ করানো হয়, তবে এপদ্ধতিতে জীনকে ঠিক রাখার জন্য প্রথমে প্লাজমিডটিকে গোল্ড পার্টিকেল দ্বারাএমনভাবে আবৃত করা হয় যেন কোষেরপাতলা পর্দায় গোল্ড পার্টিকেলটি আটকে থাকে এবং প্লাজমিডটি ভিতরে প্রবেশ করে।অনুরূপ ভাবে, ম্যাগ্নেটোফেকশনে, জীনটিকে একটি চৌম্বক পদার্থের সাথে সংযুক্ত করাহয়, অতঃপর এটিকে চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে কোষের ভিতর প্রবেশ করানো হয় এবংসনোপোরেশন পদ্ধতিতে অতি উচ্চ মাত্রার শব্দতরঙ্গ (Ultrasonic Frequency) দ্বারা প্লাজমিড বা জীনটিকে কোষে প্রবেশ করানো হয়।

যাহোক, জীন থেরাপির নন-ভাইরাল পদ্ধতি গুলো ভাইরাল পদ্ধতির থেকে ভালো হতে পারতোকিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকায় সেটা আপাতত সম্ভবহচ্ছেনা।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে জীন থেরাপির কিছু উল্লেখযোগ্য অবদান

জীন থেরাপি খুব সাম্প্রতিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বলতে গেলে জীনথেরাপি কেবল ঘোমটা খুলে মুখটা বের করেছে বাকিটা এখনও অজানা ও অনাবিষ্কৃত। কেবলজন্ম নিলেও ইতোমধ্যে জীন থেরাপি তার ক্ষমতা দেখানো শুরু করেছে। তার কিছু অবদাননিচে দেওয়া হলঃ

অতি সম্প্রতি ২০১০ সালের শেষের দিকে,ফ্রান্সের ১৮ বছর বয়স্ক এক রোগীকে জীন থেরাপি দিয়ে বেটা-থ্যালাসেমিয়া রোগ থেকেসারিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এই রোগীর ক্রোমোজোমে বেটা-হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য দায়ী জীনটিত্রুটিপুর্ণ বা অনুপস্থিত ছিল। বেটা-হিমোগ্লোবিনের অনুপস্থিতির কারণে রক্তপুরোপুরি কার্যক্ষম ছিলনা ফলে কিছু দিন পরপর তার দেহে বাইরে থেকে রক্ত দেওয়ালাগতো। জীন থেরাপির মাধ্যমে উক্ত জীনটির স্থলে ভালো জীনটি বসানো হয়েছে ফলেবেটা-হিমোগ্লোবিন যুক্ত রক্ত তার দেহেই উৎপন্ন হচ্ছে। এক্ষেত্রে অস্থিমজ্জাপ্রতিস্থাপন করেও এটা সারানো সম্ভব কিন্তু ১০০% অনুরূপ অস্থিমজ্জা পাওয়া খুবদুষ্কর উপরন্তু অপারেশন ও অনেক জটিল। জীন থেরাপি দেওয়ায় তার পরবর্তি বংশধরে এইরোগটি আর প্রবাহিত হবেনা।

জীন থেরাপির দ্বারা দৃষ্টিহীনতাও দূর করা সম্ভব। ব্রিটিশ চিকিৎসক সম্প্রতি এমন দাবিই করেছেন। বেশ কয়েকটিক্ষেত্রে জেনেটিক থেরাপির মাধ্যমে প্রায় দৃষ্টিহীন হতে যাওয়া ব্যক্তিদেরও সারিয়েতুলেছেন তাঁরা। এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করে চোখের কোষে জীনের প্রবেশ ঘটিয়েচিকিৎসা করা হয়। এতে আলো শনাক্তকারী কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়। চিকিৎসকদের বিশ্বাস, এই চিকিৎসা দিয়ে একপর্যায়ে পুরোপুরি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদেরও সুস্থ করে তোলাযাবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট ম্যাকলারেন এইগবেষণা কাজের নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, জনাথন উইয়াট (৬৩)নামে এক ব্যক্তি জীনগত সমস্যা করোইডেরেমিয়াতে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগে আক্রান্তহলে চোখের পেছনে অবস্থিত আলো শনাক্তকারী কোষগুলো ধীরে ধীরে মরে যায়। তবেঅস্ত্রোপচারের পর দেখা গেছে তাঁর দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়েছে।

এসব ছাড়াও পরীক্ষামুলক ভাবে কিছু ক্ষেত্রে হিমোফিলিয়া, ক্যান্সার ওপারকিন্সন্স ডিজিজ ও নিরাময় করা সম্ভব হয়েছে। তবে এগুলো এখনো গবেষনাগারেই সীমাবদ্ধতাছাড়া বিভিন্ন নৈতিক কারণে (Ethical Issue) মানুষে সরাসরি জীন থেরাপি প্রয়োগে অনেক সমস্যা রয়ে গেছে।

সকল রোগ কি জীন থেরাপি দিয়ে নিরাময় সম্ভব!

অবশ্যই না। কারণ জীন থেরাপি কাজ করে জীন নিয়ে, জীনের পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন ইত্যাদিনিয়ে তাই জীন থেরাপি প্রধানত জেনেটিক রোগগুলো নিরাময় করতে পারবে। বিভিন্নকারণে আমাদের শরীরের কোষে অভিব্যক্তি (Mutation) ঘটে যার ফলে নানা ধরনের অসুখ হয় যেমন ক্যান্সার, জীন থেরাপি এসব রোগের একটা স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এছাড়াওবিভিন্ন রোগ হয় ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার কারণে যেগুলো জীনের পরিবর্তনের সাথেসম্পর্কিত সেসব রোগ ও এর মাধ্যমে সারানো সম্ভব যেমন এইডস।  জন্মগত বিভিন্ন রোগ যেগুলো জীনের অভিব্যক্তিরকারণে হয়ে থাকে যেমন, জন্মগত অন্ধ, মানসিক প্রতিবন্ধী, বর্ণান্ধ (ColorBlindness), হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া, মাথায় টাক পড়া (Baldness) ইত্যাদি রোগ থেকে জীন থেরাপির দ্বারা পুরোপুরি এবংস্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

জীন থেরাপি কি সম্পূর্ণ নিরাপদ?

এতক্ষনে পাঠকদের নিশ্চয় মনে হচ্ছে জীন থেরাপি তো খুব সোজাসাপ্টা একটা ব্যাপারকিন্তু বাস্তবে এর থেকে কঠিন এবং জটিল ব্যাপার আর আছে কিনা সন্দেহ, আসল ব্যাপারটা এখানে খুব সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।গবেষকরা এখনো নিশ্চিত নয় যে জীন থেরাপি কতটা নিরাপদ কারণ এটা জীন নিয়ে কাজ করে আর জীনেরসামান্য পরিবর্তন অনেক বড় কিছু করে ফেলতে পারে আবার একটা জীন অনেক ক্ষেত্রে একাধিকজীন বা বৈশিষ্ট নিয়ন্ত্রণ করে (Polymorphism) তাই একটা নির্দিষ্ট জীন পরিবর্তন করতে গিয়ে অন্য অনেক বড় ত্রুটির সৃষ্টি হতেপারে। জীন থেরাপিতে ভালো জীনটিকে একটা সুনির্দিষ্ট জায়গায় বসাতে হয়, ঠিকঠাক জায়গায় না বসাতে পারলে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হতে পারে। জীনথেরাপিতে বিভিন্ন রকমের ভাইরাস কে বাহক হিসাবে ব্যবহার করা হয়, এই বাহক ভাইরাস খারাপ কোষকে আক্রমণ না করে ভালো কোষকে আক্রমণ করতে পারে।অনেক সময় যদি ভাইরাস বাহক নির্দিষ্ট কোষকে আক্রমণ না করে রোগীর জননকোষ আক্রমণ করেতাহলে তার পরবর্তি বংশধরও ক্ষতির কবলে পড়তে পারে। তাছাড়া জীনের সামান্যতম পরিবর্তনক্যান্সার পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, আমাদের শরীরেরনিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Immune System) আছে, শরীরে অপরিচিত কিছু প্রবেশ করলেই এটা তাদের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে দেয়, তাই জীন থেরাপির ক্ষেত্রে যখন বাহক শরীরে প্রবেশ করা হয় তখন হিতে বিপরীতহতে পারে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রাখতে হলে জীন থেরাপিকে এসব জটিলতা দূরকরতে হবে। বিজ্ঞানীদের আরও কার্যকর বাহক খুঁজে বের করতে হবে যা আরও বেশি সংখ্যককোষের উপরে কাজ করতে পারে, নতুন পন্থা উদ্ভাবনকরতে হবে যেন আরও বেশি সংখ্যক বাহক উৎপাদন করা যায় এবং আরও কার্যকর প্রমোটার খুঁজেবের করতে হবে যেন যথেষ্ট পরিমানে প্রোটিন উৎপাদিত হয়। তবে জীন থেরাপি যেহেতু অনেকনতুন একটা পদ্ধতি তাই এর সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবের কারণে অনেক সাধারন বিষয়হয়ত অনেক জটিল মনে হচ্ছে কিন্তু ভবিষ্যতে হয়ত আজকের অনেক সমস্যাই আর সমস্যাথাকবেনা।

জীন থেরাপির ভবিষ্যৎ

জীন থেরাপি এখনো আতুর ঘর থেকে বাইরে বের হয়নি কিন্তু এর মধ্যেই বিজ্ঞানীরা তারপ্রেমে পড়ে গেছে এবং তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে। জীন থেরাপি এমন একটাপদ্ধতি যেটা দিয়ে অসম্ভবকে জয় করা সম্ভব। পৃথিবীতে অন্ধ, বধির,বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, স্মৃতিভ্রষ্টতাশব্দগুলোর অস্তিত্ব আর যেন থাকছে না। অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন হাঁপানি, ডায়াবেটিস, হিমোফিলিয়া ইত্যাদি বিভিন্নক্ষেত্রে জীন থেরাপি বিজ্ঞানীদের চোখে আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে, স্বপ্নের সোনার হরিণ যেন ধরা দিলবিজ্ঞানীদের হাতে। মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও মানবদেহে অনেকত্রুটি বিদ্যমান যা অনেক নিম্নমানের প্রাণীতে অনুপস্থিত, যেমন, মানুষের চোখ খুব দুর্বল সে তুলনায়অক্টোপাস বা আমাদের চিরচেনা কুকুর, বিড়ালের চোখ অনেক উন্নত, বয়স বাড়ার সাথে মাংসপেশি ও হাড়ের ক্ষয় শুরু হয় এটাও একটা বিরাট সমস্যা।দেখা গেছে আমাদের দেহ ত্রিশ বছর পার না করতেই হাড়ের ক্ষয় (Bone Decay) শুরু হয় ফলে হাড়ের ভঙ্গুরতা বৃদ্ধি পায় এবং একটা সময়অস্টিওপরেসিস (Osteoporosis) মত রোগের উদ্ভব হয়, মানুষের উপরের অংশের ভর নিচের অংশ পুরোপুরিনিতে পারেনা যে কারণে বৃদ্ধ বয়সে পশ্চাৎ দিকে ব্যাথা (Backpain), বাত সহ নানা রকম অসুখে ভুগি আমরা, মানবজিনোমে অনেক অপ্রয়োজনীয় জীন (Junk DNA) আছে যা অনেক ক্ষতিকর অভিব্যক্তি (Mutation) ঘটাতে পারে – জীন থেরাপির মাধ্যমে এসব ত্রুটি দূর করা যেতে পারে। বিজ্ঞানআমাদের অনেক কিছু দিয়েছে কিন্তু মৃত্যুকে এড়াতে পেরেছে কি! অবাক হলেও সত্যি যেবিজ্ঞানীরা এখন মৃত্যুকে উপেক্ষা করতে চেষ্টা করছে, কারণ স্বাভাবিক মৃত্যুকে এক ধরনের জেনেটিক ডিজিজ বলা যেতে পারে এবং আশারকথা হল প্রাণিজগতের বেশ কিছু প্রাণী এই রোগ থেকে মুক্ত এবং তারা রীতিমত বয়োবৃদ্ধিরসাথে সাথে মৃত্যুকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোতেই পারদর্শী। এই প্রাণী গুলো হল-কচ্ছপ, জেলিফিশ, কিছু প্রজাতির বড় শামুক, হাইড্রা, গলদা চিংড়ি ইত্যাদি। প্রত্যেক প্রাণী একটানির্দিষ্ট বয়সে যাওয়ার পর থেকে সে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয় অর্থাৎ মৃত্যুরহার বাড়তে থাকে, এটা প্রাণিজগতে খুব কমন ব্যাপার কিন্তুসবথেকে মজার বিষয় এই জীব গুলো একটা নির্দিষ্ট বয়স পার করার পর এদের মৃত্যুর হারকমতে থাকে, অর্থাৎ একটা প্রাপ্ত বয়স্ক কচ্ছপ আর একটি ২৫০বছরের বুড়া (আমাদের হিসাবে) কচ্ছপ সব দিক থেকে হুবহু তরুন কচ্ছপটির মতো। এইপ্রাণীগুলো এটা কিভাবে করে তা বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা উঠে পড়ে লেগেছেন এবং তারাভাবছেন কি করে এটা মানুষের ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যায়, সামান্যকিছু ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছেন। আমার কথা গুলো কল্পবিজ্ঞান (Science-Fiction) মনে হতে পারেঅনেকের কাছেই কিন্তু বিষয়টা এখন দিনের আলোর মতই সত্য এবং সচ্ছ। উৎসাহীরা গুগলস্কলারিতে (Google Scholar) অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন, এ সম্পর্কিত অনেক গবেষণাপত্র পাওয়া যাবে।

উপসংহার

জীন থেরাপি এখনো গবেষণার আওতাধীন তাই এ সম্পর্কে ঠিকঠাক কিছু বলা কঠিন। তবেএটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে চিকিৎসা হিসাবে জীন থেরাপি এক নতুন দিগন্ত, যে দিগন্তের কোন শেষ নেই এটা বললেও বোধহয় খুব একটা অত্যুক্তিহবেনা। এটা মানতেই হবে যে জীন থেরাপির এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা আছে তবে সময়ের সাথেসাথে এর রূপ পূর্ণভাবে বিকশিত হবে এবং ভবিষ্যতে হয়ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি এককআধিপত্য বিস্তার করবে। গবেষকরা মনে করেন কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও চিকিৎসা ক্ষেত্রেএর ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী। তারা মনে করেন জীনবাহিত রোগ নির্মূলে ও জীনের সাধারণত্রুটি দূরীকরনে জীন থেরাপিই হবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের শেষ দুর্গ। ভবিষ্যতের জীন থেরাপি হয়ত এমন এক সময়ের জন্ম দিবে যখন ক্যান্সার, এইডসের মতো রোগ গুলো বর্তমান সময়ের পোলিও রোগের মতোবিদায়াতঙ্কে ভুগবে। হয়ত এমন এক পৃথিবীর জন্ম দিবে যেখানের মানুষ রোগ শব্দটাই ভুলতেবসবে, তাদের ভিতর কোন দুর্বলতা থাকবেনা, হয়ত অমরত্বের স্বাদ ভোগ করবে মানুষ। যাহোক, ভবিষ্যৎএক রহস্যময় অজানা জগত, আশা যেমন পূরণ হতে পারে আবার ভাঙতেওপারে কিন্তু বর্তমানের আবছা আলোয় দেখা পথের শিশুটিকে ভবিষ্যতের শাহেনশাহ্ ভাবতেদোষ কি! তাই আশায় আমরা বুক বাধতেই পারি।

লেখাটি বিজ্ঞানব্লগ এবং ব্যাক ইন স্টাডিতে প্রকাশিতঃ লেখাটির লিংক এখানেএখানে

তথ্যসুত্র:


জীন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তি – মোহাম্মদ ফারুক মিয়া

ব্যাড ডিজাইন – অভিজিৎ রায়

Gene Therapy – Web: http://ghr.nlm.nih.gov/info=gene_therapy/show/alltopics#availability

Human Gene Therapy –Web: http://www.twnside.org.sg/title/twr127b.htm

Gene TherapySuccesses – Web:http://learn.genetics.utah.edu/content/genetherapy/gtsuccess/

Advertisements

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s