প্রাণঘাতক এবোলা ভাইরাসের ইতিবৃত্তি

পৃথিবীর সবথেকে সরল এবং ক্ষুদ্রতম অণুজীব হচ্ছে ভাইরাস। এই ভাইরাস যে কত ক্ষমতাধর তা পৃথিবীর ইতিহাস ঘাটলে খুব সহজেই বোঝা যায়। ভাইরাসকে আসলে অণুজীব বলা হলেও আসলে তারা পুরোপুরি জীব নয়। ভাইরাস মূলত জীব ও জড়র মাঝামাঝি একটা অবস্থায় থাকা জৈবপদার্থ মাত্র। শুধুমাত্র জীবদেহেই সংস্পর্শেই এরা জীব হয়ে ওঠে এবং জীবনচক্র সম্পন্ন করে। যুগ যুগ ধরে ভাইরাস মানব সভ্যতাকে টিকে থাকার লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। সম্প্রতি আফ্রিকায় এবোলা নামক এক ভয়ংকর ভাইরাসের উপস্থিতি পুরো পৃথিবীকে কাপিয়ে দিয়েছে। মানব সভ্যতাকে আরো একবার শক্তি ও বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এবোলা ভাইরাস বর্তমান সময়ের সবথেকে আলোচিত ভাইরাস। আজ লিখলাম সেই বহুল আলোচিত এবোলা কাহিনী নিয়ে…

এবোলার জীবনেতিহাস

এবোলা ভাইরাস মূলত ফিলোভিরিডি (Filoviridae) পরিবারের সদস্য এবং এটি খুব মারাত্মক একটি ভাইরাস। এটি অনেকটা মারবার্গ (Marburgvirus) ভাইরাসের মতো। ফিলোভিরিডি পরিবার আবার তিন শ্রেনীর ভাইরাস নিয়ে গঠিতঃ কুয়েভা ভাইরাস (Cuevavirus), মারবার্গ ভাইরাস (Marburgvirus) আর এবোলা ভাইরাস (Ebolavirus)। এর মধ্যে এবোলারা আবার পাঁচ ভাই – জায়ারে (Zaire spp.), বান্ডিবাগ্য (Bundibugyo spp.), সুদান (Sudan spp.), রেস্টন (Reston spp.) এবং টাই ফরেস্ট (Taiforest spp.)।

এবোলার এই পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারটিই মানুষে রোগ সৃষ্টি করার বিশেষজ্ঞ, এবং সবথেকে বড় ওস্তাদ জায়ারে এবোলা ভাইরাস। এটি এতো ভয়ংকর হওয়ার কারন এটি মানুষ ও অন্যান্য ম্যামাল জাতীয় প্রানীতে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। সর্বপ্রথম ১৯৭৬ সালে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। মজার ব্যাপার হলো একই সাথে একই সময়ে এটি দুটি জায়গাতে ছড়িয়ে পড়ে –  সুদান ও জায়ারে। জায়ারের যে গ্রামে এই ভাইরাস সর্বপ্রথম দেখা যায় সেটি ছিল এবোলা নামক নদীর ধারে। ওই নদীর নামানুসারেই সম্প্রতি ২০১০ সালে এই ভাইরাসের নামকরন করা হয় এবোলা ভাইরাস।

এটাতো গেলো সেই ১৯৭৬ সালের কথা, তাহলে হঠাৎ একে নিয়ে এতো হইচই কেন? কারণ, হটাৎ করেই ২০১৪ সালের মার্চে এই ভাইরাস আবার ফিরে এসেছে পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশে। এবার এসেছে সে আরো ভয়ানক রূপ নিয়ে এবং মৃত্যুর হার অন্যান্য সকল সময়ে হওয়া মৃত্যুর থেকেও অনেক বেশি। সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় ছড়াচ্ছে, সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী সিয়েরা লিয়ন, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, সেনেগাল পর্যন্ত জল গড়িয়েছে, এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে এগারো হাজার (১১,২৬১ জন) মানুষের। ২০১৪ সালে আফ্রিকাতে মহামারি ঘটানোর নায়ক হলো উপরে উল্লেখিত জায়েরে প্রজাতি।

এবোলার জীবন

এবোলা ভাইরাস একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাস। এর প্রাকৃতিক বাহক হলো বাদুড়, বিশেষ করে ফল খেকো বাদুড়। মূলত ওদের মাধ্যমেই এই ভাইরাস মানুষ ও অন্যান্য প্রাইমেটদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সত্যি বলতে কি ভাইরাসরা কখনো সাধ করে কাওকে আক্রমণ বা রোগ সৃষ্টি করেনা (বরং ওরা এটা জানলে হয়তো এতটা নির্দয় হতনা আমাদের উপর!)। এরা তখনই রোগ সৃষ্টি করে যখন জীবদেহে প্রবেশ করে স্বাভাবিক জীবন-যাপন এবং বংশবিস্তার করতে চায় কিন্তু ভাইরাসদের একটাই সমস্যা, সাধ আছে সাধ্য নাই। ওরা অন্যান্য সকল অণুজীবদের মতো নিজেদের প্রতিলিপি (Replication) করার মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চায় কিন্তু অকোষীয় হওয়ার কারণে প্রতিলিপি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরনের পুরোটা ওদের নেই তাই আশ্রয় নিতে হয় সুবিধাজনক কোন কোষাভ্যান্তরে।

এখন ভাইরাস গুলো কি হেটে হেটেই কোষের ভিতরে ঢুকে যাবে!? না, কোষে প্রবেশ করার ব্যাপারটা খুব সহজ কথা নয়, কারণ কোষঝিল্লির ছিদ্রগুলো ভাইরাসের থেকেও সূক্ষ্ম, সাথে আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাতো আছেই। তাই এটি খুব টেকনিকালি হ্যান্ডেল করতে হয় ভাইরাসদের। তারা হোস্ট কোষের বিভিন্ন অনুর (Molecules) সাথে বন্ধন তৈরি করে এবং এর মাধ্যমেই কোষে প্রবেশ করে। যেসব অনুর সাথে বন্ধন তৈরি করে এদের বলে রিসেপ্টর (Receptor)। এইসব রিসেপ্টর গুলো খুব সুক্ষ এবং ইউনিক। এক ধরনের রিসেপ্টর শুধুমাত্র এক রকমের ভাইরাসের সাথেই বন্ধন তৈরি করতে পারে। যাহোক, এই হলো ভাইরাসের কোষে প্রবেশের মাস্টারপ্লান। ভাইরাস অনুযায়ী পদ্ধতিতে অল্পবিস্তর রদবদল হলেও, মুল ব্যাপার একই থাকে।

এখন আমদের গল্পের নায়ক, এবোলা খান ও ঠিক একই পদ্ধতি ব্যবহার করে, এবং এই রিসেপ্টরের নাম নাইম্যান-পিক সি১ (Niemann-Pick C1)। এবোলা ভাইরাসের গ্লাইকোপ্রোটিন (Glycoprotein, GP) নাইম্যান-পিক সি১ এর সাথে বন্ধন তৈরি করে, অতঃপর কোষে প্রবেশ করে। মানব কোষের আরো একটি রিসেপ্টর এই ভাইরাল গ্লাইকোপ্রোটিন এর সাথে জোট বাধতে পারে, এটির নাম টিম-১ (TIM-1)। তবে এই রিসেপ্টর গুলো সকল কোষে পাওয়া যায়না – কর্নিয়া, ট্রাকিয়া, কনজাংটিভা ইত্যাদি কোষে পাওয়া যায়। এজন্যই এবোলা ভাইরাসের পছন্দের প্রবেশদ্বার হলো নাক, মুখ এবং চোখ।

কোষে প্রবেশতো করা গেলো, এবার মুল কাজ শুরু করতে হবে। আসলে অন্যান্য সকল ভাইরাসের মতো এবোলাও অকোষী এবং সাধারণ কোষ বিভাজনে অক্ষম। এরা যখন কোষে প্রবেশ করে তখন, এদের কোষঝিল্লী আর প্রাণীকোষ ঝিল্লীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গহ্বর গুলো মিলেমিশে যায়, ফলে কোষপর্দা ভেদ করে শুধুমাত্র ভাইরাল ক্যাপ্সিড টি ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর কোষের ভিতরের এক প্রকার এনজাইমের (Enzyme) কার্যকারীতায় ক্যাপ্সিড (Capsid) ভেঙ্গে এর ভিতরে থাকা ভাইরাল জিনোমটি বেরিয়ে আসে। এবলার জিনোম একটি এক সূত্রক আরএনএ (ssRNA)। এই আরএনএ-টি (RNA) প্রাণী কোষে বিভিন্ন প্রকৃয়ায় পুর্ন এমআরএনএ-তে (mRNA) পরিণত হয় এবং প্রাণী কোষের রাইবোজোম (Ribosome), টিআরএনএ (tRNA) ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রোটিন তৈরি করে। যখন প্রাণী কোষের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভাইরাল প্রোটিন তৈরি হয়ে যায় তখন প্রোটিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রতিলিপিকরন (Replication) প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায়, ভাইরাল আরএনএ-টির  আরেকটি কপি তৈরি হয় যা কিনা নতুন ভাইরাসটির জিনোম গঠন করে। এভাবে সকল প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid) তৈরি হয়ে যাওয়ার পর, সবগুলো একত্র হয়ে নতুন ভাইরাস গঠন করবে। এভাবে যেহেতু অনেক অনেক প্রোটিন তৈরি হইছে তাই অনেক গুলো নতুন বাচ্চা ভাইরাস তৈরি হবে। এই গঠন প্রক্রিয়া আবার সম্পন্ন হয় কোষ ঝিল্লীর কাছাকাছি।

এখন একটা ভাইরাস থেকে অনেক গুলো বাচ্চা ভাইরাস তো তৈরি হলো কিন্তু কোষের ভিতর বসে থাকলে কি চলবে! এরপর এরা কোষঝিল্লী আক্রমণ করে এবং কোষঝিল্লী ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে। আসার সময় কোষ ঝিল্লীর কিছু অংশ এদের ক্ষুদ্র শরীরের চারদিকে মুড়িয়ে আসে। এই মুড়িয়ে আসা অংশটুকুই ভাইরাসের বহিরাবরনে পরিবর্তিত হয়। বেরিয়ে আসার পর শুরু হয় নতুন কোষে ধাওয়া করার অভিযান, এভাবে একসময় পুরা শরীরে ছড়িয়ে যায়।

সৃষ্ট রোগ ও রোগের প্রকৃতি

এবোলা ভাইরাস ইভিডি (EVD) রোগ সৃষ্টি করে। ইভিডি একটি ছোঁয়াচে রোগ, তবে এটা অন্যান্য ছোঁয়াচে ভাইরাস যেমন হাম, ইনফ্লুয়েনঞ্জা, এদের মত নয়। এরা মুলত সংস্পর্শ ও দেহ রসের (রক্ত, লালা, বীর্য, মুত্র ইত্যাদি) আদান-প্রদানের মাধ্যমে খুব সহজেই এক দেহ থেকে আরেক দেহে সংক্রমণ হতে পারে। এবোলা ভাইরাসের আক্রমণের পর দেহে লক্ষণ প্রকাশ পেতে প্রায় ২-২১ দিন লাগে তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৪-১০ দিনেই বাবাজীরা তাদের কেরামতি দেখাতে শুরু করে। এই ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাথমিক অবস্থায় দেহে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমনঃ

১। শরীর ক্লান্তি ও দূর্বল বোধ হয়;

২। ক্ষুদামন্দা, পেশি ও হাড়ের সন্ধি ব্যাথা হয়;

৩। ডায়রিয়া, বমি ও তলপেট ব্যাথার পাশাপাশি জ্বর অনুভূত হয়;

৪। জ্বর সাধারণত ১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইট এর উপরে হয়।

প্রাথমিক লক্ষন দেখা দেওয়ার ৫-৭ দিন পর চামড়ায় লাল লাল গুটি দেখা দেয়, পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, মাথা ও বুকে ব্যাথা হতে পারে। অনেকক্ষেত্রে (প্রায় ৪০-৫০%) দেহের ভিতরে বা বাইরে দিয়ে রক্তক্ষরন হতে পারে এবং এর ফলে রক্তবমিও হতে পারে। তবে খুব বেশি রক্তক্ষরন সাধারনত দেখা যায়না আর গেলেও সেটা অন্য কারন। এবোলা ভাইরাসের আক্রমনে মৃত্যুর হার অনেক বেশি তার প্রধান কারন এই রক্তক্ষরনের ফলে সৃষ্ট নিম্ন রক্তচাপ। এই রোগে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, জীবনের শেষ মুহুর্তে কোমায় চলে যেতে দেখা যায়।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার

এই ধাপে এসে লেখাটা কেমন জানি ধীর হয়ে যায়, কারন সত্যি বলতে এখনো এবোলার স্থায়ী এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা আবিস্কার হয়নি। অবশ্য ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত অনেক ভ্যাক্সিনই প্রস্তুত করা হয়েছে কিন্তু ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে ইউনাইটেড স্টেটস অফ ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (FDA)  তার সবগুলাই বাতিল করেছে। তবে ২০১৪ সালে সেপ্টেম্বরে ওর মধ্য থেকেই একটা ভ্যাক্সিন মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়, এবং সেটা মোটামুটি কাজ করেছিল কিন্তু কিছু সমস্যার কারনে সেটাও এপ্রুভ করেনি। যাহোক, বিজ্ঞানীরা এখনো গবেষনা করে যাচ্ছেন, কিছু সিরাম (Serum) প্রস্তুত করেছে যা মুলত আক্রান্ত কোষসমূহকে ধ্বংস করে। দুঃখের কথা এইযে এখনো পর্যন্ত এবোলার বিরুদ্ধে কাজ করে এমন কোন লাইসেন্স প্রাপ্ত ভ্যাক্সিন বাজারে আসেনি তবে দুইটা ভ্যাক্সিন পরিক্ষামুলক ভাবে মানুষের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এছাড়াও, প্রতিরোধ ব্যাবস্থার মাধ্যমে এবোলাকে টেক্কা দেওয়া যেতে পারে। এবোলা যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ তাই আগে থেকে কিছু ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে যাতে এবোলা ভাইরাসের সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানো যায়, এভাবে এবোলা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে পারি। যেমনঃ গ্লোভস বা মাস্ক ব্যাবহার করা, রক্ত আদান-প্রদানের সময় ভাইরাস আছে কিনা পরিক্ষা করে দেখা। মোটকথা, এবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তির থেকে একটু সতর্ক থাকা। এমনকি, এভিডি ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ মারা গেলে তার সৎকার করার সময়ও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে, তাই সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

শেষকথা

বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সাথে সাথে আমরা প্রকৃতিকে নিজেদের উপযোগী করার চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত, প্রকৃতিও নিরবে খেলছে শত্রু শত্রু খেলা। তবে ভাইরাস যেন আরো এক কাঠি বেশি ঝানু, তাদের এতো এতো ক্ষমতা নাই সত্যি কিন্তু নিজেকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলার মত বিস্ময়কর ব্যাপারটি তারা অনায়াসেই পারে আর এর ফলেই সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য নতুন ভাইরাস। দিনকে দিন যেন নিজেদের বেশি ভয়ঙ্কর করে তুলছে তারা (আমরা অনেক ভাগ্যবান যে তারা নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে অজ্ঞাত)। আমরা এসব ভয়ঙ্কর ভাইরাস ও তাদের সৃষ্ট রোগ হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য হয়তো প্রতিষেধক বের করছি ঠিকই কিন্তু পেরেছি কি প্রকৃতির চুড়ান্ত নায়ক হতে!?

লেখাটি ব্যাক ইন স্টাডিতে প্রকাশিতঃ লেখাটির লিংক এখানে

তথ্যসুত্রঃ


WHO, Ebola virus disease, Web: http://www.who.int/mediacentre/factsheets/fs103/en/

Wikipedia, Ebola Virus Disease, Web: https://en.wikipedia.org/wiki/Ebola_virus_disease

Wikipedia, Ebola Virus, Web:  https://en.wikipedia.org/wiki/Ebola_virus

CDC, About Ebola Virus Disease, Web: http://www.cdc.gov/vhf/ebola/about.html

Webmd, Ebola Virus Infection, Web: http://www.webmd.com/a-to-z-guides/ebola-fever-virus-infection

Advertisements

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s