মডার্ণ এইপের ফেইসবুকের পাতা থেকে

মিথ্যা ও ভুলে ভরা এক করোটির কথা

আমরা এ কোন দিকে চলেছি! আমরা কুসংস্কারের কাছে আমৃত্যু ধর্ষিত হতে রাজি কিন্তু যুক্তির কাছে হারতে রাজি নই! অথচ মানুষ আপাদমস্তক একটি লজিকাল প্রানি এবং যুক্তির কাছে হেরেই আজ আমরা আদিম অনিশ্চিত গুহাবাসী অসভ্য জীবন ছেড়ে মানুষ হয়েছি। এমনকি এই অনন্ত মহাবিশ্বে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছি কিন্তু পরিপুর্ন মানুষ কি হতে পেরেছি আজো?

আজো তাই কারো প্রশ্নের সামনে নিজের জ্ঞ্যানের নগ্নতা প্রকাশ পেলে, তাকে রুদ্ধ করতে বদ্ধ পরিকর হই – সেটা জীবনের বিনিময়ে হলেও। নিজের জ্ঞ্যানের শুন্যতা কারো প্রমান/তথ্য সম্বলিত কমেন্ট মুছে দিলেই ঢেকে রাখা যায়না, বরং নিজের কাছে নিজেকেই ছোট করা হয়। তাই কাওকে জ্ঞ্যানপাপী বলার আগে, নিজের করোটির নিচের ধূষর থকথকে বস্তুটি সম্পর্কে জানুন, এই ধূষরের প্রকৃতি ও সাইজ সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। তেমনি কারো কাছে প্রমান চাওয়ার আগে নিজের কতটুকু সহ্য ক্ষমতা আছে দেখে নিন।

“সকল মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানানো যায়; এমনকি কিছু মানুষকে সকল সময়ের জন্য বোকা বানানো যায়; কিন্তু সকল মানুষকে সকল সময়ের জন্য বোকা বানানো যায় না”— আব্রাহাম লিংকন

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যু, অতঃপর…

যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই হলো, বই মেলায় অভিজিৎ দার বইয়ের সংকট শুরু হয়ে গেছে কাল থেকে। না, অভিজিৎ রায়ের লেখা তাদের ধর্মানুভুতিতে আঘাত দিয়েছে বলে যে তারা বই বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে তা নয় বরং কারনটা পাঠকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। এই সংকট আজো থাকবে নিশ্চিত, থাকবে আরো বহুদিন। ফলে আরো বেশি লোক ধর্মের ক্ষত গুলো চিনবে এবং জানবে, কৌতুহলী হলে কুরান ও হাদিস গ্রন্থ ঘেটে দেখবে – এরপর নিজেকে প্রশ্ন করবে।

অতঃপর কিছু ব্যাক্তি অলৌকিকত্বে মোহিত হয়ে বিশ্বাসের সাগরে আমরণ ডুব দিবে কিন্তু যারা কৌতুহলী হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের তাগিদে নিজেকে ভাবনার জিরো গ্রাভিটিতে নিয়ে যেতে পারেন তারা নির্মোহ দৃস্টিতে ইতিহাস-বিজ্ঞান-ধর্ম একসুত্রে গাথার চেস্টা করবে। বলাবাহুল্য, অবধারিতভাবেই তারা হতাশ হবে এবং তাদের নিশীত কালো চলার পথে ফোটন কণার ঘটবে আগমন আর অবিশ্বাসের দর্শন বাধবে দানা।

অসি ও মসীর শক্তি পরিক্ষা এবং একটি নক্ষত্রের অপমৃত্যু

বাংলায় একটা বহুল ব্যবহারিত প্রবাদ হলো, “অসির চেয়ে মশীর শক্তি বেশি”। এটা পাল্টিয়ে “মশীর চেয়ে অসির শক্তি বেশি” করার সময়টা বোধহয় এসে গেছে নাহলে একটা উজ্জ্বল নক্ষত্র মানুষরূপী কিছু জানোয়ারের চাপাতির আঘাতে এভাবে খশে পড়তোনা। সেই নক্ষত্রটি হল আমাদের অভিজিৎ রায়, পেশায় সফটওয়ার প্রকৌশলি, বিজ্ঞান লেখক ও জাহানারা ইমাম পুরস্কার প্রাপ্ত বাংলা ব্লগ মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিৎ রায় কে কাল রাতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলা ব্লগিং জগতের অন্যতম পথিকৃৎ এবং সকল বাংলা ব্লগারদের কাছে বড় দাদার মত। তাকে মেরেই এসব নরপিশাচরা ক্ষ্যান্ত হয়নি তার স্ত্রীকেও (বন্যা আহমেদ) মারাত্মক জখম করা হয়েছে। আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছেনা যে দাদা আর নেই। এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই।

বাংলা ব্লগ জগতে বিজ্ঞানমনস্ক ও মুক্ত জ্ঞ্যান চর্চার ক্ষেত্রে মুক্তমনার মত ব্লগ দ্বিতীয়টি নেই। মুক্তমনার সাথে পরিচিত সেই ২০০৮ থেকে তাই উনার প্রায় সব ব্লগই আমি পড়েছি, বিশেষ করে বিজ্ঞানের উপর লেখাগুলো। কি অসাধারণ নিখুত ও ক্ষুরধার লেখা অথচ কত সহজ সাবলীল বক্তব্য – কোন বাড়তি কথার চাষ নেই। ব্লগ ছাড়াও অভিজিৎ রায়ের লেখা প্রায় সবগুলো বইও আমি পড়েছি। মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রথম জেনেছি তার লেখা থেকে। সত্যিই ওনার লেখার জুড়ি মেলা ভার। লেখার মাধ্যমে অভিজিৎ রায় সকল অপবিজ্ঞান, কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ভাইরাসের দিকে বুড়ো আঙ্গুল তুলে ছিলেন – আর এটাই তার মৃত্যুর কারন। আচ্ছা, কেউ ধর্মের বিপক্ষে যুক্তি দেখালেই কি তাকে মেরে ফেলতে হবে! কারো যুক্তির বিপক্ষে যুক্তি না দেখাতে পেরে তাকে মেরে ফেললেই কি ধর্মের জয় হয়ে যায় নাকি তার যুক্তির কাছে নিজের ধর্মকেই ছোট করা হয়!? মৌলবাদীরা বিজ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেও দোষ নাই কিন্তু যুক্তিবাদীরা ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেই যত দোষ কারন এটা যে ঐশীবাণী। এইসব ঐশীবাণীর বিরুদ্ধে পার্থিব প্রশ্নের উত্তরে যাদের হাতে কলমের বদলে চাপাতি ধরতে হয় – এটা তাদের লজ্জা। ঘৃণাভরে ধিক্কার জানাই তাদের।

ঠিক একই শক্তি এভাবেই ২০০৪ সালের এই সময়ে হুমায়ুন আজাদ কে থামিয়ে দিয়েছিল, ২০১৩ তে রাজীব হায়দার ও আসিফ মহিউদ্দিন, ২০১৫ তে অভিজিৎ রায় কিন্তু এভাবে আর কত? এরপর কে বলি হবে? সবথেকে বড় প্রশ্ন – এদের মেরেই কি সবকিছু চেপে রাখা যাবে! বাস্তবতা কিন্তু তা বলেনা কারন আরজ আলি, হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিনের বইয়ের ব্যাপক চাহিদা, আসিফ ও রাজীবের ব্লগের অগনিত পাঠক, শার্লি হেবদোর ম্যাগাজিনের বিক্রি লক্ষগুন বেড়ে যাওয়াই তার প্রমান। নিশ্চিত ভাবেই এবার অভিজিৎ রায়ের বইয়ের বিক্রি এবং পাঠক সংখ্যা বেড়ে যাবে, ধর্মীয় বিদ্বেষ সম্পর্কে জানবে অনেকে, বাড়বে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা। পাশ্চাত্য ধর্মগুরুরা অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল যে ধর্মের অবমাননাকারী নাস্তিকদের পাছায় আঙ্গুল দিলে তা নিজেদের মলদ্বারে গিয়েই ঠেকে। এজন্যই তারা এখন যে যার মত ধর্ম পালন করছে। এভাবে আসলে কিছু দমিয়ে রাখা যায়নি আর কখনো যায়না।

ছোট বেলায় পড়েছি, ধর্ম হল আত্মিক জীবে বিশ্বাস। বিশ্বাসের দিকে চিরকালই যুক্তি আঙ্গুল তুলেছে, তুলেই যাবে – এর অন্যথা হবেনা কখনো। চাপাতির কোপে কি সেই যুক্তিকে খন্ডন করা যাবে! যাবেনা, চাপাতির কোপে শুধু যুক্তির আধারটি পাল্টানো যাবে কিন্তু যুক্তি পদার্থ বিজ্ঞানের সুত্রের মতই অবিনশ্বর। বহুকাল আগে গ্যালিলিও দাবি করেছিলেন পৃথিবী ঘুরছে তাই তাকে চার্চ কতৃক প্রদত্ত মৃত্যু মেনে নিতে হয়েছিল কিন্তু সেজন্য পৃথিবী কি ঘোরা বন্ধ করেছে! পরবর্তিতে বরং সেটাই সঠিক প্রমানিত হয়েছে। তাই সব আঘাত সহ্য করে যুক্তি একদিন কারো না কারো মস্তিষ্কের কোন একটা নিউরনে আলোড়ন তুলবেই। এতে সন্দেহ নেই, মাঝখান থেকে আমরা হয়তো কিছু গুনীজন হারাবো।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শেষ বিচারের দিন ইশ্বর তার ধর্ম অবমাননাকারীদের শাস্তি দিবেন, কিন্তু আজ কিছু মৌলবাদী অবিশ্বাসীদের শাস্তি দিয়ে নিজেদের কি ইশ্বরের সমতুল্য করার মত মারাত্মক অপরাধ করছে না! তারা কি শেষ বিচারের প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেনা! ইশ্বর মানুষ সৃস্টির পর তাকে সঠিকভাবে চালানোর জন্য ধর্মীয় বিধান দিয়েছিল। ভাবতে অবাক লাগে, সেই ধর্ম আজ মানুষের জীবনের ঊর্ধে উঠে গেছে।

অভিজিৎ দা আমরা সত্যিই দুঃখিত যে তোমাকে অসময়ে এভাবে চলে যেতে হল কিন্তু আমরা গর্বিত কারন তুমি অল্প সময়ে শিখিয়েছ অনেক। তুমি নাই তাতে কি হয়েছে, তোমার শব্দগুলোতো অমর, কেউ কেড়ে নিতে পারবেনা। তুমি একদম ভেবোনা, তোমার রেখে যাওয়া কাজটা কেউ না কেউ ঠিকই করবে। আসলে আমরা রত্নগর্ভা হলেও সেই রত্নের দ্যুতি সহ্য করার ক্ষমতা সম্ভবত আজো আমাদের হয়নি, তাই যুক্তিবাদীর কলমের বিরুদ্ধে আজো আমাদের চাপাতি ধরতে হয়। ছিঃ ধিক্কার জানাই এইসব নরপিশাচদের। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারীদের অবিলম্বে ধরার এবং যথাযথ বিচারের দাবি জানাই।


বাংলা আমার মাতৃভাষা, বাংলা আমার অহংকার

আমরা বাংলাদেশি – এটা আমাদের অনেক বড় গর্ব। আমরা এক অপ্রতিরোধ্য জাতি। আমরা দেশের জন্য যেমন জীবন দিয়েছি, ভাষার জন্যেও জীবন দিয়েছি এবং প্রতিবারই আমরা আমাদের বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। আমাদের মত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস খুব কমই আছে এই পৃথিবীতে। কাল সেই মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি যেদিন বাংলা ভাষাকে রক্ষার জন্যে প্রান দিয়েছিল রফিক, ছালাম, বরকত ও জব্বারসহ আরো অনেকে। তাই আমাদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসটি এক বিশেষ ভালবাসার ও শ্রদ্ধার মাস –

এটা আমাদের ভাষার স্বাধীনতার মাস।।

এটা গৌরবময় বিজয়ের মাস।।

এটা আমাদের ভাষা সংগ্রামের মাস।।

এটা আমাদের ত্যাগের মাস।।

এটা সুখ-দুঃখ মেশানো স্মৃতির মাস।।

এটা আমাদের অহংকারের মাস।।

এটা আমাদের মহান ভাষা শহীদদের মাস।।

এই আন্দোলনের ফলাফল হিসাবে ১৯৫৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে তা সংবিধানের অন্তর্গত করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।ভাষা আন্দোলন শুরুর প্রায় দশ বছর পর বাংলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় ১৯৫৬ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারী। এরপর ভাষার জন্য আমাদের এই বিরল আত্মত্যাগের কারনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।

যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলতে পারি – সেইসব ভাষা শহীদদের স্মরনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করা হয়েছে। এইদিনে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান দেখানো হয় (যদিও তাদের আত্মত্যাগের কাছে একদিনের এই ক্ষনিক সম্মান বড়ই তুচ্ছ)। রাজনৈতিক কারনে আমার ইবি ক্যাম্পাস এখন বন্ধ তাই আজ রাতে হয়তো ক্যাম্পাস শহীদ মিনারে যাওয়া হবেনা, শহীদদের সম্মানে দিতে পারবোনা ফুল, তবুও মন থেকে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। স্যালুট জানাই সকল শহীদদের প্রতি যাদের জন্য আজ বাংলায় কথা বলতে পারছি, বাংলায় এই স্টাটাসটি লিখতে পারছি। তাদের সকলের পবিত্র আত্মার শান্তি কামনা করি।

একটা কথা না বললেই নয়, ‘৫২তে যারা আমাদের ভাষার বিরোধিতা করেছিল তারাই ‘৭১এ আমাদের মহান স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল, বড় কস্টের বিষয় আজো তারা পেছপা হয়নি, বরং কিছু মহলের মদদে দিন দিন পুস্ট হচ্ছে। আমি বুঝিনা দেশের আলো-বাতাস খেয়ে কিভাবে সেই দেশের সাথে বেঈমানি করা যায়, এতো মায়ের কোলে শুয়ে মাকেই অস্বীকার করা! আমরা বাংগালি, বীরের জাতি। অতীতে বহুবার আমরা আমাদের অদম্য অপ্রতিরোধ্যতার পরিচয় দিয়েছি, আমরা কি পারিনা এসব দেশোদ্রহিতার বিরুদ্ধে আরো একবার রুখে দাড়াতে! আমরা কি পারিনা ‘৫২, ‘৬৯ অথবা ‘৭১ এর মতো আরো একবার জ্বলে উঠতে, আজকের ফস্কুড়িটি বিষ্ফোড়া হয়ে ওঠার আগেই সমুলে উৎপাটন করতে! আসুন সবাই মিলে ভাষার এই পবিত্র মাসে সকল শহীদদের প্রতি সম্মান রেখে দেশ ও ভাষার সুমহান মর্যাদা রক্ষার্থে দৃঢ় প্রত্যয়ী হই।

কল্পনার টাইম মেশিন এবং আমার শৈশব

আমাদের দোতলা বাড়ির পুরোটাই রং করা হচ্ছে, তাই সবকিছু বের করে পরিস্কার করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে দেখলাম আমার ছোটবেলার কিছু খেলনা এখনও জীবিত আছে (বেশির ভাগ খেলনাই পরবর্তিতে বাড়ির পিচ্চিদের মাঝে বন্টন করা হইছে)।  ভাবলাম, দেখি যেগুলো আছে সেগুলোর কি অবস্থা! দোকান থেকে নতুন ব্যাটারি আনা হলো এবং যথাস্থানে লাগানো হলো, অবাক হয়ে দেখলাম সবগুলো খেলনাই ঠিকঠাক আছে। আসলে, ছোটবেলায় আমার এগুলার প্রতি খুব আগ্রহ ছিলো, আর বাবাও বাইরে গেলেই কিছু না কিছু নিয়ে আসতেন। এসব ব্যাপারে বাবার একটু প্রশ্রয় ছিল। তবে আমার মুল আগ্রহ ছিলো – এগুলা নিয়ে আসার পর গোপনে স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে খুলে মিস্ত্রিগিরি করা আর এগুলা কিভাবে কাজ করে তা দেখা। যেইমাত্র সব দেখাদেখি শেষ সেইমাত্র সেটা সুন্দর করে লাগিয়ে তুলে রাখতাম আর নতুন খেলনার বায়না করতাম। সেসব দিন গুলো এখন স্বপ্নের মতো মনে হয়। ইসস! সত্যিই যদি টাইম মেশিন তৈরি করা সম্ভব হতো!!!

রাজন আমাদের ক্ষমা করে দিও

চারিদিকে রাজনের আর্তনাদে বাতাস ভারী; দূর থেকে ভেসে আসছে হায়েনার অট্টহাসি; ফেইসবুক জুড়ে রাজনের রক্তাক্ত মৃত্যুর চলমান প্রতিচ্ছবি। একদল নরপিশাচ যেন খুবলে খুবলে খাচ্ছে ১৩ বছরের এক শিশুকে। আমি দুর্বল মনের মানুষ তাই দেখার মতো দুঃসাহস আমার হয়নি। তবে এরা যে নরকের কীট থেকেও অধম সেটা বুঝার বাকি নাই।

নাহ! রাজনকে বাচাতে চাইবার মত ধৃষ্টতা দেখানোর উপায় নাই, কারন সে এখন এসবের ঊর্ধে – অপার্থিব এক সত্তা। আমরা বরং এমন কিছু করতে পারি যাতে রাজনের আত্মা শান্তি পায় এবং ভবিষ্যতে আর কোন রাজন এভাবে না হারায়। শুধুমাত্র এই নরকের কীটদের বিচারের মাধ্যমেই সেটা সম্ভব। ইয়েস! আমরা রাজন হত্যাকারীদের বিচার চাই, ফাসী চাই।

মওকা মওকা – এক নষ্ট জাতির ক্রিকেট অনুভুতি

বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনালের খেলাকে কেন্দ্র করে বানানো পেপসির ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত এবং অপমান করা হইছে। জানিনা পেপসি এর সাথে সম্পৃক্ত কিনা কারন এতটা ছেলেমানুষী এই বিখ্যাত ব্রান্ডটি করবে বলে মনে হয়না। যদি সত্যিই পেপসি এই বিজ্ঞাপন তৈরির সাথে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় তাহলে আমরাও পেপসি বর্জনপূর্বক এই ব্রান্ডটির পশ্চাৎদেশে লাথি দিয়ে দুর করবো এই দেশ থেকে।

তবে যতটুকু বুঝেছি এটা পেপসির কাজ নয়, এটা আমাদের শকুনি বন্ধু (শকুনি মামা থেকে পরিবর্তিত) ভারত তথা ভারতের কিছু নোংরা মানুষের কাজ। কথায় বলে শকুন যতই উপরে উঠুক তার চোখ থাকে মড়ার দিকে। ভারতের মানুষগুলোর অবস্থা বোধহয় আরো খারাপ। যতদিন গড়াচ্ছে এই দেশটা বর্ণবাদ ও স্বজাতিবাদের আখড়া হয়ে উঠছে। পাকিদের প্রতি ঘৃণা থেকে জানামতে, আমি পাকিস্তানের কোন পণ্য ব্যবহার করিনা। ভারতের ক্ষেত্রে অনিবার্য কারনবশত সেটা হয়তো সম্ভব নয় কিন্তু আমরাও চুপ করে থাকবোনা। বাংলার টাইগাররা ব্যাটেবলে এর যথোপযুক্ত উত্তর দিবে একদিন। সেদিনের অপেক্ষায় থাকলাম। জেগে ওঠো !!!

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্যের জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ কিন্তু তার মানে এই নয় যে বাংলাদেশ হল ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের বাইপ্রোডাক্ট। ইচ্ছে করলেই ইতিহাস পাল্টানো যায়না বরং নিজেকেই কলঙ্কিত হতে হয়। এটাই প্রথম নয়, এর আগে ভারতের গুন্ডে চলচিত্রেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করা হয়েছে। তাই সকল ভারতবাসীকে বলতে চাই, স্বাধীনতা আমরা কারো কাছ থেকে ভিক্ষা করে পাইনি, পেয়েছি লক্ষ প্রান ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে। এদেশের স্বাধীনতা কারো খয়রাতি দান নয় যে যা ইচ্ছা তাই কইবেন আর আমরা মুখ বুজে সব মেনে নিবো। তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়াই ভালো।

Advertisements

One thought on “মডার্ণ এইপের ফেইসবুকের পাতা থেকে

  1. Inetresting too that your blog won – since your blog barely even talks about issues in the area. The 2nd and 3rd place sites at least appear to be based in the DC area due to their content. Seems like discussion of issues in our area are few.

    Like

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s