৫৭ ধারা যেন ব্লাস্ফেমী আইনের প্রতিচ্ছবি!

আজকের বাংলাদেশ এমন একটা জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে যেখানে ন্যায় অন্যায়ের পরিণতি উল্টে গেছে। আজকাল খুন হত্যা ধর্ষন করেও কোন বিচার হয়না অথচ ব্লগে লেখালিখি করলে তার কারাদন্ড হয়, তাকে কুপিয়ে খুন করা হয় এবং সে খুনের কোন বিচার হয়না। লেখালিখি বা বাক-স্বাধীনতার উপর এই অবিচার এবং ব্লগার হত্যাকে হালাল করার জন্য প্রধানত দায়ী বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ৫৭ ধারা। এটাকে এদেশে বাক-স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হাতীয়ার হিসাবে নিচ্ছে কিছু মানুষ। অনেকটা পাকিস্তানের ব্লাস্ফেমী আইনের মত, এটা সুবিধামত ব্যাবহার করছে এদেশের এক বিশেষ গোষ্ঠি। পরিস্থিতি এমন যে কথা বলাটাই এখন পাপ! নাজানি কখন কার অনুভুতিতে লেগে বসে।

মজার ব্যাপার হলো, কারো ক্ষতি, অনুভুতিতে আঘাত বা সম্মানহানী করলে ৫৭ ধারা প্রয়োগের কথা বলা হলেও বাস্তবে এটা আমাদের প্রশাসন নিজেদের সুবিধামত ব্যবহার করছে। যেমন, ধর্ম নিয়ে সমালোচনা বা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করলে ঠিকই তাকে ধরা হচ্ছে কিন্তু একইভাবে ব্লগারদের যখন অনলাইনে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে তখন তাদের ধরা হচ্ছেনা। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় কি লেখা আছে একটু দেখে নেইঃ

কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা যথেষ্ট গোলমেলে, প্রথমত এখানে সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি কি ধরনের তথ্য প্রদান করলে বা অনুভুতিতে আঘাত বলতে কি বুঝানো হয়েছে। উপরন্তু এখানে শাস্তির পরিমানটা বারো হাত কাকুড়ের তেরো হাত বিচির মত। এছাড়া ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করতে গেলে যেমন ওয়ারেন্ট লাগেনা আবার নিরাপরাধ প্রমাণিত নাহলে জামিন পাওয়া  যাবেনা।

ঠিক এমনই এক আইন আছে পাকিস্তানে যার নাম ব্লাস্ফেমী আইন। ব্লাসফেমি আইন নামে পৃথক কোনো আইন পাকিস্তানে নেই। দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারাকে একত্রে বলা হয় ব্লাসফেমি লজ বা ধর্ম অবমাননা-সম্পর্কিত আইনসমূহ। ধর্মের অবমাননা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা ইত্যাদি ধর্মসংক্রান্ত অপরাধের দায়ে জরিমানা ও কারাদণ্ডের এই বিধান ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত ভারতবর্ষের দণ্ডবিধিতে ১৮৬০ সালে যুক্ত করা হয়েছিল (২৯৫)। বলাবাহুল্য, ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে এ রকম অভিযোগে মামলা হয়েছিল মাত্র ১৪টি। সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউল হক উগ্র ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর আনুকূল্য লাভের প্রচেষ্টায় ১৯৮৬ সালে দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারায় দুটি উপধারা সংযুক্ত করেন। একটিতে কোরআনের অবমাননার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (২৯৫বি), অন্যটিতে মহানবী (সা.)-এর অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান করা হয় (২৯৫সি)। এ ছাড়া পাকিস্তানের দণ্ডবিধির ২৯৬, ২৯৭, ২৯৮ (এ, বি ও সি) ধারাতেও ধর্মসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড, জরিমানা এবং একসঙ্গে উভয় রকমের শাস্তির বিধান করা হয়েছে। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন-এর এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান দণ্ডবিধির উল্লিখিত ধারাগুলোর আওতায় ধর্মসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ১৯৮৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মামলা হয়েছে মোট এক হাজার ২৭৪টি। এই অল্প সময়ে এতোগুলো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারন কি! সত্যিকার অর্থে অপরাধ সংঘটিত হয়নি বরং এটা আইনের অপব্যবহারের ফল। পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনের ব্যাপক অপব্যবহারের পেছনে রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, গোষ্ঠীগত, পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও শত্রুতা। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতভিটা ও দোকানপাট থেকে উৎখাত করার একটা হাতিয়ার হিসেবে ধর্মের অবমাননার অভিযোগ তোলা সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সংক্ষেপে কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হলে দেশটিতে এ আইনের অপব্যবহারের ব্যাপকতা সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যাবে।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রকৌশলী ছিলেন তাহির ইকবাল, যিনি ইসলাম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টান হয়েছিলেন। পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে তিনি লাহোরে একটি মসজিদের পাশে বাস করতেন এবং শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। একদিন সেই মসজিদের ইমাম অভিযোগ তোলেন যে তিনি আজানের সময় মহানবী (সা.)-এর অবমাননা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে তিনি শিশুদের ইসলামবিরোধী শিক্ষা দিচ্ছেন। এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ওই ইমাম একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে দায়রা জজ আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন এই বলে, ‘যেহেতু ইসলাম থেকে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়াই একটি গুরুতর পরিণতিসম্পন্ন আমলযোগ্য অপরাধ, তাই আমার বিবেচনায় আসামি এ পর্যায়ে জামিন পেতে পারেন না।’ কিন্তু পাকিস্তানের দণ্ডবিধি অনুযায়ী ধর্মান্তরিত হওয়া কোনো অপরাধ নয়। একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা তাহির ইকবালের স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে বলে সাক্ষ্যপত্র দেওয়ার পরও ওই বিচারকের আদেশের কোনো নড়চড় হয়নি। ১৯৯০ সালে তাহির ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়, কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৯২ সালের জুলাই মাসে তিনি মারা যান। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।

১৯৯১ সালে করাচিতে চান্দ বরকত নামের ২৮ বছর বয়সী এক চুড়ি বিক্রেতার বিরুদ্ধে ইসলামের অবমাননার অভিযোগে মামলা করেন আরিফ হুসেইন নামের আরেক চুড়ি বিক্রেতা। বরকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছয়জন মুসলমান আদালতে সাক্ষ্য দেন যে বরকত ইসলামের অবমাননা করেছেন এমন কিছু তাঁরা দেখেননি। কিন্তু বিচারক বরকতের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলে পাঠিয়ে দেন। ১৫ মাস জেল খাটার পর বরকত ১৯৯৩ সালে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে জেল থেকে খালাস পান। কিন্তু মুসলমান প্রতিবেশীরা তাঁকে হত্যা করার হুমকি দিলে তিনি করাচি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

১৯৯১ সালে করাচিতে চান্দ বরকত নামের ২৮ বছর বয়সী এক চুড়িবিক্রেতার বিরুদ্ধে ইসলামের অবমাননার অভিযোগে মামলা করেন আরিফ হুসেইন নামের আরেক চুড়িবিক্রেতা। বরকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছয়জন মুসলমান আদালতে সাক্ষ্য দেন যে বরকত ইসলামের অবমাননা করেছেন এমন কিছু তাঁরা দেখেননি। কিন্তু বিচারক বরকতের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলে পাঠিয়ে দেন। ১৫ মাস জেল খাটার পর বরকত ১৯৯৩ সালে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে জেল থেকে খালাস পান। কিন্তু মুসলমান প্রতিবেশীরা তাঁকে হত্যা করার হুমকি দিলে তিনি করাচি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

১৯৯১ সালে ফয়সালাবাদে গুল মসিহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে রাস্তার পানির ট্যাপ মেরামত করা নিয়ে ঝগড়া হয় প্রতিবেশী সাজ্জাদ হুসেইনের। তারপর সাজ্জাদ গুল মসিহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, গুল মসিহ মহানবী (সা.) ও তাঁর পত্নীদের সম্পর্কে অবমাননাসূচক কথা বলেছেন। পুলিশ এসে গুল মসিহ ও তাঁর ভাই বশির মসিহকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বশিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় থানা থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুলকে আদালতে নেওয়া হয়, সেখানে তিনজন সাক্ষীর মধ্যে শুধু অভিযোগকারী সাজ্জাদই গুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। অন্য দুজন সাক্ষী বলেন, গুল মহানবী (সা.) ও তাঁর পত্নীদের অবমাননা করেছেন এমন কিছু তাঁরা দেখেননি বা শোনেননি। কিন্তু বিচারক তালিব হুসেইন বালুচ ১৯৯২ সালে গুলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচারক বালুচ তাঁর রায়ে বলেন, ‘যেহেতু সাজ্জাদ হুসেইন (অভিযোগকারী) ২১ বছর বয়সী একজন যুবক, বিএ ক্লাসের একজন ছাত্র এবং দাড়িওয়ালা, সুদর্শন একজন প্রকৃত মুসলমান, তাই আমি তাঁর কথা অবিশ্বাস করার কোনো কারণ দেখি না।’ গুল মসিহর এই মৃত্যুদণ্ডের রায়ই পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনে কোনো মামলার প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায়। অবশ্য উচ্চতর আদালতে গুল শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান, কিন্তু তিনি আর পাকিস্তানে থাকতে পারেননি। তিনি জার্মানি চলে যান। আর তাঁর ভাই বশির মসিহ ওই ঘটনার পর থেকে কোনো কর্মসংস্থান জোগাড় করতে পারেননি।

ফয়সালাবাদের ৪৩ বছর বয়সী নিয়ামত আহমার একজন শিক্ষক, যিনি খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী। তাঁর পেশাগত সাফল্যে তাঁর কয়েকজন মুসলমান সহকর্মী এতটাই ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন যে তাঁরা ফারুক আহমেদ নামের এক ছাত্রকে বোঝান, নিয়ামত মহানবী (সা.)-এর অবমাননা করেছেন, তাঁকে হত্যা করতে হবে। স্বধর্মের শিক্ষকদের কথায় বিশ্বাস করে তরুণ ফারুক তাঁর বিধর্মী শিক্ষক নিয়ামতকে উপর্যুপরি ছুরি মেরে হত্যা করেন। ফারুকের ১৪ বছরের কারাদণ্ড হয়, কারাগারের ভেতরে সবাই তাঁর বেশ তারিফ করে বলে খবর পাওয়া যায়।

এটি ১৯৯২ সালের ঘটনা। একই বছর বান্টু মসিহ (৮০) ও মুখতার মসিহ (৫০) নামের দুই ব্যক্তিকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে লাহোরের পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। থানায় পুলিশের সামনেই বান্টু মসিহকে আটবার ছুরি মারেন এক ব্যক্তি। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তারা বান্টুকে বলে, তাঁকে যে ব্যক্তি ছুরি মেরেছে, তিনি যদি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা না করেন, তাহলে ব্লাসফেমির মামলা থেকে তাঁকে বাঁচিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বান্টু মসিহ হাসপাতালেই মারা যান। আর মুখতার মসিহকে থানায় পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করে। এরকম ভুরিভুরি উদাহরন দেওয়া যাবে পাকিস্তানে ব্লাস্ফেমী আইনের অপপ্রয়োগ নিয়ে। বাংলাদেশের ৫৭ ধারা আইনটি ঠিক এরকম রূপ নিচ্ছে দিন দিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসাথে সবকুল রক্ষা করতে চাইছেন কিন্তু এটা অন্তত গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় যে শেখ হাসিনা যদি ওদের পা চেটেও দেয় তবু ওরা প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিবেনা। এটা অতি সাধারন কমন সেন্সের ব্যাপার। সংখ্যার ভিত্তিতে অনেকে প্রশ্ন উঠাতেই পারেন, এতো কম সংখ্যক মানুষের জন্য নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন হতে পারেনা। আসলে ভোটের সংখ্যায় সবকিছু বিচার করা যায়না। এসব নিয়ে প্রতিবাদ বা সমালোচনা করলে অনেকেই বলেন যে, “বর্তমানে উনিই (শেখ হাসিনা) একমাত্র আস্থার স্থান”। ব্যাপারটা হয়তো অনেকটা সত্য কিন্তু বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন না করলে এই আস্থার জায়গাতে আঘাত করতে ওরা দ্বিতীয় বার ভাববেনা।  একবারো কি তারা ভেবে দেখেছেন তাদের লেখনীর আঘাতে অন্যান্য চেতনা ধুলিষ্যত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আবির্ভাব ঘটে। এটা হয়তো তিনি বলতেই পারেন যে ব্লগারদের ভোট না নিলেও চলবে, তারা আর কতজনই বা হবে। সেক্ষেত্রেও একটা কথা অবশ্যই বলতে হয়, বর্তমান সময়ে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু অথবা আওয়ামী-লীগের চেতনা সম্পর্কে তরুন সমাজ জাগ্রত করার জন্য মূলত এইসব কুখ্যাত ব্লগাররাই দায়ী। অমি পিয়াল ভাইয়ের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গবেষনা, আরিফ রহমানের গবেষনালব্ধ বই তিরিশ লক্ষ শহীদ – বাহুল্য নাকি বাস্তবতা, এগুলার মুল্য শুধু ভোটের আলোকে করা সম্ভব নয়। তাদের এইসব কাজের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে দেশ ও জাতির প্রতি তাদের ভালোবাসা। এপর্যন্ত যতগুলো ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই কোননা কোনভাবে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে জড়িত এবং যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ব্যাপারে সোচ্চার।

আমাদের দেশের মন্ত্রিরা শুধু চাপাবাজীর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হতে চান, জানতে ইচ্ছে করে কতজন সত্যিকারভাবে বুকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন! কতজন শেখ মুজিবের আদর্শ মেনে চলেন! জানি এর উত্তর দেওয়া অনেক সহজ তাদের জন্য কারণ তারা কাজে নয় কথায় বিশ্বাসী। কাজে বিশ্বাসী হলে উত্তর দেওয়াটা অনেক কঠিন হত। আমি নিশ্চিত এই দেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা অন্যরকম ছিল। যে দেশের জন্য তিনি তার জীবনের অমুল্য সময়ের বেশীরভাগ সময় কারাগারের অন্ধকারে পার করেছেন তার চিন্তাধারা এরকম হতে পারেনা। বঙ্গবন্ধু এক অন্যরকম দেশের, সম্পুর্ণ আলাদা এক জাতির উন্নতিকল্পে যুদ্ধের আহবান দিয়েছিলেন। আমরা তার আদর্শকে পদদলিত করছি প্রতিমুহুর্তে। বঙ্গবন্ধু এক সেকুলার দৃষ্টিভঙ্গির দেশ গড়তে চেয়েছিলেন কিন্তু তাকে হত্যার মধ্য দিয়েই সেই ইচ্ছেকে কবর দিয়েছিল এদেশেরই কিছু বর্বর প্রাণী, কিন্তু কাওকে মেরে ফেল্লেই তার চেতনা মারা যায়না, যেতে পারেনা। সেই চেতনা আজো আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছে শুধু চাই একটু উৎসাহ।

জননেত্রি বেগম শেখ হাসিনা সত্যিই এদেশকে ভালোবাসেন, দেশের জন্যে জীবন দিতেও প্রস্তুত যার প্রমান তিনি অনেক বারই দিয়েছেন কারণ তার রক্তে যে প্রবাহিত হচ্ছে সর্বকালের শ্রেষ্ট বাঙালীর রক্ত। রক্ত বেঈমানী করেনা কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা মানে নিজেরই বিপদ ডেকে আনা। তাই যেকোন একটায় ওঠা উচিৎ। মুক্তচিন্তা এবং বাক স্বাধীনতা মানুষের অধিকার, এই অধিকার কেড়ে নেওয়া কোন সভ্য সমাজের পুর্বলক্ষন হতে পারেনা, তাই অচিরেই এই প্রহসন মুলক ৫৭ ধারা উঠিয়ে দেওয়া হোক অথবা নিদেনপক্ষে পরিবর্তন আনা হোক। আমরা জানি জননেত্রি শেখ হাসিনা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারেন। আস্থার স্থান যে শুধুমাত্র একটাই, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ঊষালগ্নে দাঁড়িয়ে আমরা তরুন সমাজ সেই পানে তাকিয়ে। নিশ্চয় আমরা আশাহত হবোনা, হতে দেবেন না তিনি। এদেশের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিলীন হতে পারেনা। শুধু চাই একটু আশা।

তথ্যসুত্রঃ


http://archive.prothom-alo.com/detail/news/344485

http://www.somewhereinblog.net/blog/ziahassan/29814600

http://www.bbc.com/bengali/news/2015/08/150823_oo_sanglap126

http://www.kalerkantho.com/online/national/2015/08/25/260886

Advertisements

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s