বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থান, নির্লিপ্ত সরকার

সাম্প্রতিক বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিকদের হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়া বিদেশী নাগরিকদের উপর জঙ্গি হামলার সন্দেহবশত খেলা বাতিল করে দিল। আর ঠিক দুদিন পরেই ঢাকায় হাই সিকুরিটি এলাকায় ইতালির নাগরিক ট্যাভেলা খুন হন। ইতালির ট্যাভেলার পর রংপুরে গতকাল দিনে দুপুরে খুন হলো জাপানি নাগরিক হোসি কোমিও। খুনের প্যাটার্ন একই – মোটর বাইক, পিস্তল/রিভল্বার, তিনটি বুলেট। দুইটা খুনেই আইএস দায় স্বীকার করেছে (যদিও নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ!) ঠিক যেমন ব্লগার হত্যার সময় আন্সারুল্লাহ দায় স্বীকার করেছিল। এটা কাঁকতাল নাকি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোন গভীর চক্রান্ত সেটা এখনো পরিষ্কার নয়! এর উত্তর তিন রকম হতে পারে, প্রথমত এটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র, দ্বিতীয়ত অস্ট্রেলিয়ার সন্দেহের সুবিধা নিয়ে এদেশেরই বিরোধীশক্তি বহিঃবিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে প্রমানিত করার অপচেষ্টা, এবং তৃতীয়ত বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে জঙ্গি আছে। এখন কোনটা আসল ঘটনা সেটাই দেখার বিষয়।

ওদিকে একইদিনে (অক্টোবার ৩, ২০১৫) ময়মনসিংহে আইএসের পোস্টার লাগানোর সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আমাদের নেত্রীর মতে দেশে আইএস নাই, এগুলো সব জামায়াত-বিএনপির চক্রান্ত। তাহলে এইযে খুন, হত্যা, পোষ্টার ছড়ানো করছে কারা আর কেনই বা আইএস এই হত্যার দায় স্বীকার করবে? আজ পোষ্টার লাগাচ্ছে, কাল সরাসরি আত্মপ্রকাশ করবে, এই সন্দেহটা কি অমুলক! আবার যদি ধরে নেই, যে বিএনপি-জামায়াত আইএসের সাথে মিলে এই কাজ করছে – তবুও প্রশ্ন থাকে, এটাকে কি জঙ্গিমুক্ত ষড়যন্ত্র বলা যাবে!? আমাদের গোয়েন্দারা বসে থাকেনা কখনো, তারা চুলচেরা তদন্ত করবে অতঃপর বলবে ব্লগার হত্যা বা বিদেশী নাগরিক খুন বলে কিছু হয়নি বাংলাদেশে, সব মিডিয়ার সৃষ্টি (ইতোমধ্যে এইচ টি ইমাম সাহেব কইছেন হোশী বাংলাদেশি এবং রংপুরের আলু ব্যাবসায়ী!)। সারাবিশ্ব যখন জঙ্গি নিধনে তৎপর, তখনো আমরা বালিতে মুখ গুজে পড়ে থাকি আর ভাবি দেশে কোন জঙ্গি নাই, দেশের মানুষ খুব নিরাপদে আছে। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায়, যারা মরেছে তারা এদেশের বাইরের লোক অথবা তারা মানুষই নয়।

সমস্যা সমাধান করতে চাইলে আগে সমস্যাকে স্বীকার করতে হবে। আপনি ঠিক বলেছেন, আমরা খুব অল্পতেই সেন্সিটিভ হয়ে যাই। বাঙালি আবেগপ্রবন জাতি, এই আবেগ প্রবনতাই বাঙালিকে ভাষা-আন্দোলন, গনভ্যুত্থান কিংবা মুক্তিযুদ্ধের মত গর্ব এনে দিয়েছে। প্রথমে ব্লগার হত্যা, এখন বিদেশী নাগরিক হত্যা (গর্বের সহিত দায় স্বীকার) অতঃপর পোষ্টার বিলি- এসব থেকে কি হিসাব মেলানো কঠিন যে এগুলো কাদের কাজ? যারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা কোনো ধর্মের লোক নয়, ‘সন্ত্রাসই’ তাদের ধর্ম – এই সহজ কথাটা যেহেতু বলতে পেরেছেন আশা করি এদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নিতেও কার্পন্য করবেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখনো সময় আছে – দেশে জঙ্গি আছে বা জঙ্গি কার্যক্রম চলছে এটা মেনে নিন এবং তাদের ধরে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্তা করুন; নাহলে ওদের সুযোগের অপেক্ষাটুকুই হবে আপনার জীবন।


তথ্যসুত্রঃ

http://m.bdnews24.com/bn/detail/home/1035285

http://m.bdnews24.com/bn/detail/home/1035459

http://m.bdnews24.com/bn/detail/home/1035323

http://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/1035204

Advertisements

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s