শুন্যতার বিবর্তন ও মহাবিশ্ব

আমরা এলেম কোথা থেকে? মানব সভ্যতার সবথেকে পুরাতন এবং অমীমাংসিত কৌতুহল সম্ভবত এই প্রশ্নটার ভিতরেই লুকায়িত। অবশ্য একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ তার বুদ্ধিমত্তাকে ব্যাবহার করে সৃষ্টির এই রহস্য জট প্রায় খুলেই ফেলেছে, যেটুকু আছে বাকি সেটাও বোধহয় এ শতাব্দীতেই শেষ হয়ে যাবে। মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্যের ঘোর কাটলেই সম্ভবত মানুষ মহাবিশ্ব গড়ায় মন দিবে। নিজেদের মনের মত করে গড়বে এই মহাবিশ্ব, অথবা খুজে নিবে অন্যকোন সুবিধাজনক মহাবিশ্ব (আমাদের মহাবিশ্ব কোন একক মহাবিশ্ব নয়; বরং এরকম অসীম সংখ্যক মহাবিশ্ব আছে এই মহাজগতে (অথবা বহুবিশ্বে!))। অসীম এই মহাবিশ্বকে আমরা যতটা নিখুত আর জটিল ভাবি এটা ততটা নয়; মহাবিশ্ব হলো গাণিতিক নিয়মানুযায়ী শুন্য থেকে হটাৎ উদ্ভুত হওয়া এক মহাজাগতিক বুদ্বুদ। এই মহাবিশ্বের বাইরেও এরকম অনেক ঘটনা অহরহ ঘটছে তাই আমাদের মহাবিশ্ব কোন একক কিছু নয় বরং নকশা বিহীন এক মহাজাগতিক দুর্ঘটনা মাত্র।

এই লেখায় আমি, স্রেফ শুন্য থেকে মহাজাগতিক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে কিভাবে এই মহাবিশ্ব (বহুবিশ্ব বলাটাই শ্রেয়) তথা সবকিছু সৃষ্টি হলো সেটার একটা সংক্ষিপ্ত বিবরন দেওয়ার চেষ্টা করবো, মুলত সৃষ্টির প্রক্রিয়া আলোচনার মুল লক্ষ্য। লেখাটি আসলে সবার জন্য; সংযত কারনেই তাই গাণিতিক ব্যখ্যাগুলো এখানে এড়িয়ে যাবো। তাছাড়া সল্প পরিসরে, এতকিছুর বিস্তারিত উল্লেখ করা অনেক কষ্টসাধ্য এবং অসম্ভব ব্যাপার। আমি খুব গভীরেও যেতে চাইনা; অন্ততপক্ষে বিগব্যাং থেকে পৃথিবী সৃষ্টি পর্যন্ত ঘটা মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর পরম্পরা এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা দিতে চাচ্ছি। সুতরাং গণিত বা ফিজিক্সে তেমন জানার প্রয়োজন নাই। কিছু ব্যাপার একটু আশ্চর্য লাগতেই পারে, মহাজাগতিক ঘটনা (নাকি দুর্ঘটনা!) বলে কথা; তবে নিশ্চিত করছি এখানে যাকিছু উল্লেখ করা হবে সেগুলো বিজ্ঞান কতৃক স্বীকৃত এবং প্রমাণিত। সুতরাং অযথা মাথানষ্ট করে লাভ নাই; অবশ্য জানার ইচ্ছে থাকলে আটকায় কে! ইন্টারনেটের বিশাল সমুদ্র পড়ে আছে যখন হাতের নাগালে, সাথে আছে আমাদের পরম প্রিয় গুগল মামা – এনিটাইম এনিহোয়ার।

লেখার শিরোনাম “শূন্যতার বিবর্তন থেকে মহাবিশ্ব” দিয়েছি কারন বিবর্তন বলতে আমরা বুঝি পরিবর্তন; অন্যকথায় পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে কোনকিছুর আবির্ভাব। একেবারে সৃষ্টির শুরুতে কিন্তু কিছুই ছিলনা, ছিল বিশুদ্ধ শুন্য। মহাবিশ্ব থেকে শুরু করে আজকের পৃথিবী, প্রাণী জগত সবকিছুই এসেছে শুন্যতা থেকে। শূন্যতার বিবর্তনেই সবকিছুর উৎপত্তি।

পরবর্তি লেখা পড়ুন –>

Advertisements

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s