ব্লগাররা আমার কে হয়!

ব্লগাররা তোর কে হয়, তাদের নিয়ে তোর এতো মাথাব্যাথা কেন!? অভিজিৎ দার মৃত্যুর পর থেকে এপর্যন্ত ব্লগারদের স্বপক্ষে লেখার জন্য অনেকের সাথে বহুবার তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে, ফলে নিকট মানুষদের কাছ থেকেই এই প্রশ্নটার মুখোমুখি হয়েছি। ভেবে পাইনা কি বলবো! ব্লগারদের অধিকাংশের সাথে আমার সরাসরি পরিচয় নেই সত্য, বেশিরভাগই পরিচিত লেখার মধ্য দিয়ে। সুতরাং তথাকথিত সম্পর্কের প্রশ্নটা এখানে অবান্তর কিন্তু সম্পর্ক অনেক রকম হয় (রক্তের, শরীরের, আত্মার), তাই কিছু না কিছুতো আছেই। লেখার মধ্যদিয়ে একজন ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা-আদর্শের প্রতিফলন ঘটে। এজন্য এসব মানুষদের সাথে আমার আদর্শিক সম্পর্ক, ভালবাসা, ভালোলাগার সম্পর্ক। সবথেকে বড় সম্পর্ক এরা সবাই মানুষ, কেউ মহামানব নয়।

বিবর্তনের উপর আগ্রহ ছিল সেই স্কুল জীবন থেকে (আখতারুজ্জামানের “বিবর্তনবিদ্যা” বইটি এবং “চার্লস ডারউইনের জীবনী” এক্ষেত্রে বিশেষভাবে দায়ী)। কলেজ জীবন শেষ করে ভর্তি পরিক্ষার কোচিং করতে যখন ঢাকাতে গেছি, এধরনের বইয়ের জন্য নীলক্ষেত এবং নিউমার্কেট যেতাম প্রায়ই। অনেক খুজে পেয়েছিলাম আরজ আলি মাতুব্বরের রচনা সমগ্র তিনটা। এসব বই অবশ্য পাওয়া বেশ কঠিন, একদিন নিউমার্কেট থেকে বন্যা আহমেদের “বিবর্তনের পথ ধরে” বইটা দেখলাম এবং তৎক্ষণাৎ ব্যাগে পুরলাম বলাবাহুল্য। এতটাই আগ্রহ ছিল যে পথে ফিরতেই ফিরতেই অনেকটা পড়ে ফেলেছিলাম 😛 । এরপর কিনলাম অভিজিৎ রায়ের “আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রি”। বুঝলাম আমাকে যেভাবেই হোক মুক্তমনাতে ভিজিট করতে হবে। শুরু হলো সাইবার ক্যাফে এডভেঞ্চার। এভাবেই মুক্তমনাদের জগতে আমি প্রবেশ করি।

সেই ২০০৯ সাল থেকে আমি ব্লগের সাথে যুক্ত, অর্থাৎ ব্লগারদের সাথে যুক্ত। বলতে গেলে তেমন কিছুই লিখিনি আমি। হাতেগোনা দুয়েকটা ব্লগে লিখেছি মাত্র যদিও মুক্তমনাতে আমি কখনো লিখিনি (সত্যি বলতে নিজেকে মুক্তমনা ব্লগে লেখার যোগ্য মনে হয়নি)। ফেইসবুকের বদৌলতে অবশ্য অনেকের সাথেই পরে সরাসরি নাহলেও ভালো পরিচয় হয়েছে। এজন্য চিন্তাধারা এবং লেখালিখিই আমাদের মুলত একত্র করেছে, লেখালিখিই বলতে গেলে আমাদের সম্পর্ক। এবার আসি আসল প্রসঙ্গে, সম্পর্ক বিভিন্ন রকম – কোনটা রক্তের, কোনটা শরীরের, আবার কোনটা আত্মার। রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও অনেক সম্পর্ক হয় যেমন স্বামী-স্ত্রী। বিবাহ প্রথায় মুহুর্তেই সম্পুর্ন অপরিচিত দুজন মানুষের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ও অধিকার রচনা করে মাত্র একটা শব্দ অথবা রঙ। তাহলে মুক্তমনাদের মৃত্যুতে তাদের সাথে এতদিনের চিন্তা-আদর্শ-দর্শনের মিশ্রণ আমাকে কেন কাদাবেনা!? ঠিক এ কারনেই তাদের মৃত্যু আমাকে পীড়া দেয়, আমাকে মুহুর্তের জন্য হলেও সহিংস হতে উদ্বুদ্ধ করে। ব্লগারদের সাথে তাই সম্পর্কটা আমার শিক্ষার, দর্শনের, আত্মার এবং সর্বোপরি মুক্তমনের।

Advertisements

One thought on “ব্লগাররা আমার কে হয়!

  1. En tant que lycéen, je puis vous assurer que nous aussi nous mornsilebois contre cette réforme inepties et contre le mechent drôle qui se nomme Nicolas Sarkozy

    Like

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s