রোহিঙ্গা ইস্যু, বাঙালী ও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে চুপ থাকবো ভেবেছিলাম। যেখানে নিজের দেশের সব সমস্যার প্রতিবাদ করতে পারিনা তখন অন্য দেশের অন্য জাতির সমস্যা নিয়ে ভাবাটা নিতান্তই বিলাসিতা। কিন্তু চুপ থাকাটাও অনেকের কাছে ভন্ডামী। বাংলাদেশীরা বার্মায় রোহিঙ্গা নির্যাতনে খুব সোচ্চার, এতটা সোচ্চার নিজ দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনেও দেখা যায়নি। কেন! কারণ বেশিরভাগ বাংলাদেশীর কাছে রোহিঙ্গারা আগে মুসলিম পরে মানুষ (বাকিরা হয়তো মানুষই না)। আমার কাছে মানুষ পরিচয়টাই আসল। এজন্য আমার দেশের মানুষের নির্যাতন আর ভিন্ন দেশের মানুষের উপর নির্যাতন আমাকে সমানভাবে ব্যাথিত করে। নিজের লোকদের প্রাধান্য তাই আগে দিতে চাইবো। আমি রোহিঙ্গাদের মুসলিম বলার আগে মানুষ বলতে চাইবো।

আমাদের দেশে মানুষের ক্ষত জায়গা একটাই, ইসলাম ধর্ম।, মুসলিম কেউ নির্যাতিত হলেই, বৌদ্ধ বা পশ্চিমা ষড়যন্ত্র বলেই চিৎকার-ম্যাতকার শুরু করে দেয়। একবারো ভাবেনা, সিরিয়ানদের কেন কাছাকাছি সৌদিআরব বা মধ্যপ্রাচ্য রেখে, জার্মানিতে পাড়ি দিতে হয়; অন্যদিকে ইয়েমেনে নির্যাতন করছে সৌদিআরব (কোন পশ্চিমা নয়)! অথচ রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের কারন কিন্তু ইসলাম বা ধর্ম নয়, মুল কারন – জাতিগত বিদ্বেষ, বিদ্রোহ বা জঙ্গি তৎপরতা। সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা নির্যাতনের কারণঃ গত ৯ই অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি, ৩টি পুলিশ ষ্টেশনে রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্টী (আকামুল মুজাহিদিন) হামলা চালায় যার ফলে ৯ জন পুলিশ নিহত হয় ও ৫ জন আহত হয় এবং এই হামলার প্রশিক্ষন ও অর্থ দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য (সুত্রঃ ডেইলিষ্টার, ইউরেশিয়ারিভিউ)। এর আগে ২০১৫তে বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াতে পালাতে গিয়ে মৃত্যু হয় সেজন্যেও একটা হুলস্থুল কান্ড তৈরি হয় এদেশে। এছাড়া রোহিঙ্গা কতৃক এক রাখাইন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যাকে কেন্দ্র করেই ২০১২ তে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস তৈরি হয়। সুতরাং রোহিঙ্গারা একেবারে বিনা কারনে নির্যাতিত হচ্ছে তা নয় এবং এর পেছনেও সেই মুসলিমরাই দায়ী (এইক্ষেত্রেও কিন্তু তথাকথিত ইসলাম ধ্বংসে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছেনা)।

Image result

Image resultImage resultএসব ছাড়াও বিভিন্ন কারণে রোহিঙ্গারা নিপীড়িত হচ্ছে, বহুদিন ধরেই নৃশংসতার বলি হচ্ছে সত্য কিন্তু বর্তমানে রোহিঙ্গা নির্যাতনের যেসব ছবিতে ফেসবুক বা ইন্টারনেট সয়লাব হচ্ছে তার বেশিরভাগই অনেক আগের, অন্য দেশের এবং ফটোশপ করা ছবি। যারা রোহিঙ্গাদের জন্য এদেশের বর্ডার খুলে দেওয়ার পক্ষে, তারা কি ভেবেছেন এতো রোহিঙ্গা পোষার ক্ষমতা বা জায়গা বাংলাদেশের আছে কিনা! উপরন্তু রোহিঙ্গারা এদেশে সাম্প্রদায়িক উষ্কানি, জঙ্গি কার্য্যক্রম, ইয়াবা আমাদানি, ভুয়া পাস্পোর্টে মানব পাচার সহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে লিপ্ত (সুত্রঃ বিডিনিউজ২৪, ইত্তেফাক, প্রথম-আলো)। আশ্রয়দানের প্রতিদান যদি এই হয় তাহলে এই প্রতিদান বাংলাদেশ নিবে কেন! এরপরেও বাংলাদেশ ৫ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গার আশ্রয় দিয়েছে (সুত্রঃ উইকিপেডিয়া, বিবিসি)। এদের অত্যাচারে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অতিষ্ঠ। সর্বোপরি, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এখন গোদের উপর বিষ্ফোড়া। এতোকিছু জানার পরেও যারা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে আশ্রয় দিতে ইচ্ছুক তারা নিজ দায়িত্বে বাসায় এনে রাখুক, প্রত্যেকে এভাবে দুয়েকজন করে আনলে কিন্তু সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। এবং এরপর ফিলিস্তিন, ইয়েমেন……সবাইকে আশ্রয় দিবো আমরা। মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ বলে কথা।

মোদ্দাকথা, রোহিঙ্গারা নির্যাতিত এবং এটা ছোটখাটো কোন সমস্যা নয়। রোহিঙ্গা ইস্যু কয়েক যুগের পুরানো, এর স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। এই সমস্যাটা বার্মার, এর স্থায়ী সমাধান একমাত্র বার্মাই করতে পারে। অন্যের সমস্যা নিজের ঘাড়ে নিলেও সেটা সমস্যাই থাকে! একারণেই আমি তাদের এদেশে আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে নই, এতে বরঞ্চ বার্মার স্বপ্ন সত্যি হবে। ওরাতো এটাই চায় যে সব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে যাক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বরং কূটনৈতিক ভাবে বিশ্বজনমত গঠনের মাধ্যমে জাতিসঙ্ঘকে ব্যাপারটা সমাধানের জন্য চাপ দিতে পারে। পাশাপাশি এদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বার্মাতে পুনর্বাসন করার প্রচেষ্টা চালাতে পারে এবং অতি অবশ্যই এটা হওয়া উচিত সরকারিভাবে। হোক সে হিন্দু-সাওতাল, রোহিঙ্গা অথবা ফিলিস্তিনি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল নিপিড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তি হোক এটাই চাই।

Advertisements

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s