রোহিঙ্গা ইস্যু, বাঙালী ও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে চুপ থাকবো ভেবেছিলাম। যেখানে নিজের দেশের সব সমস্যার প্রতিবাদ করতে পারিনা তখন অন্য দেশের অন্য জাতির সমস্যা নিয়ে ভাবাটা নিতান্তই বিলাসিতা। কিন্তু চুপ থাকাটাও অনেকের কাছে ভন্ডামী। বাংলাদেশীরা বার্মায় রোহিঙ্গা নির্যাতনে খুব সোচ্চার, এতটা সোচ্চার নিজ দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনেও দেখা যায়নি। কেন! কারণ বেশিরভাগ বাংলাদেশীর কাছে রোহিঙ্গারা আগে মুসলিম পরে মানুষ (বাকিরা হয়তো মানুষই না)। আমার কাছে মানুষ পরিচয়টাই আসল। এজন্য আমার দেশের মানুষের নির্যাতন আর ভিন্ন দেশের মানুষের উপর নির্যাতন আমাকে সমানভাবে ব্যাথিত করে। নিজের লোকদের প্রাধান্য তাই আগে দিতে চাইবো। আমি রোহিঙ্গাদের মুসলিম বলার আগে মানুষ বলতে চাইবো। Continue reading

দ্বিধান্বিত বাঙালি জাতি ও যুদ্ধাপরাধী বিচার

জাতি হিসাবে বাঙালী আজীবন দ্বিধান্বিত। নিজের পরিচয় থেকে শুরু করে বিশ্বাস পর্যন্ত সবকিছুতেই তাদের দ্বিধা। দেশ ও জাতির জন্ম-ঊষালগ্ন তাদের চোখে ঘোলাটে। পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয় এদেশের সাধারণ জনগণ। রক্তের দামে কিনে নেয় বাংলাদেশ নামের এই ছোট্ট ভূখণ্ড। মাত্র ৪৪ বছর আগের কথা; অথচ কত সহজে ভুলে গেছে তারা। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আমাদের আলাদা হওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল শোষণ মুক্ত সেক্যুলার দেশ গড়া কিন্তু এখন সেই লক্ষ্য বদলে হয়েছে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া। এই বদল নিশ্চয় এমনি আসেনি, এসেছিল এদেশীয় কিছু পাকি জারজদের হাত ধরে। বাঙালী জাতি কখনো নির্বোধ ছিলনা কিন্তু তারা ছিল দ্বিধাবিভক্ত আর আবেগপ্রবণ। Continue reading

প্রকাশক হত্যা এবং আমার অবেলা!

দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাস্তান সৃষ্টির আয়োজন।  ব্লগার হত্যার ধারা বজায় রেখে এবার নতুন এক ধারার জন্ম দিতে কুপিয়ে জখম ও হত্যা করা হলো মুক্তধারার বইয়ের প্রকাশককে। গত ৩১ অক্টোবর, শুদ্ধস্বরের অফিসে হামলা করে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল, তারেক রহিম এবং রণদীপম বসু – এই তিন জনকে গুরুতর জখম করা হয়। এর ঠিক কয়েক ঘন্টা পরেই জাগৃত প্রকাশনীর ফয়সাল আরেফিন দীপন কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এদের চারজনের মধ্যে রণদীপম বসুর লেখার সাথে আমি পরিচিত। এই প্রকাশকদের অপরাধ তারা অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করেছিল। কি অদ্ভুত দেশ আমাদের! Continue reading

ব্লগাররা আমার কে হয়!

ব্লগাররা তোর কে হয়, তাদের নিয়ে তোর এতো মাথাব্যাথা কেন!? অভিজিৎ দার মৃত্যুর পর থেকে এপর্যন্ত ব্লগারদের স্বপক্ষে লেখার জন্য অনেকের সাথে বহুবার তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে, ফলে নিকট মানুষদের কাছ থেকেই এই প্রশ্নটার মুখোমুখি হয়েছি। ভেবে পাইনা কি বলবো! ব্লগারদের অধিকাংশের সাথে আমার সরাসরি পরিচয় নেই সত্য, বেশিরভাগই পরিচিত লেখার মধ্য দিয়ে। সুতরাং তথাকথিত সম্পর্কের প্রশ্নটা এখানে অবান্তর কিন্তু সম্পর্ক অনেক রকম হয় (রক্তের, শরীরের, আত্মার), তাই কিছু না কিছুতো আছেই। লেখার মধ্যদিয়ে একজন ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা-আদর্শের প্রতিফলন ঘটে। এজন্য এসব মানুষদের সাথে আমার আদর্শিক সম্পর্ক, ভালবাসা, ভালোলাগার সম্পর্ক। সবথেকে বড় সম্পর্ক এরা সবাই মানুষ, কেউ মহামানব নয়। Continue reading

‪‎এনআইবি স্মৃতিকাব্য ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার‬!

মজার সময়গুলো বড্ড ক্ষণস্থায়ী হয়! ‪আইনস্টাইনের‬ ভুত (আপেক্ষিকতা) তখন আমাদের মনে ভর করে। কঠিন সময়গুলো যায় খুব ধীরে আর মজার সময়গুলো চোখের পলকে। ঠিক তেমনি বুঝার আগেই যেন শেষ হয়ে গেলো ‪এনআইবির (NIBNational Institute of Biotechnology)‬ চমৎকার দিনগুলো। ওখানে গেছিলাম ‪জৈবপ্রযুক্তির‬ বেসিক ট্রেনিং করতে কিন্তু আমার মনে হয় ওটা একটা প্রতিযোগিতা ছিল, মজা করার প্রতিযোগিতা। সবাই মিলে অনেক মজা করেছি। ট্রেনিং শেষে বাসায় ফিরে খুব মিস করছি সবাইকে, বিশেষ করে ইন্ডিয়াবাসী দুধখোর ‪বিট্টু‬ ওরফে সাদিকুর ভাইয়ের মজার মজার কৌতুক, ‪সুমন‬ দার বিবাহিত জীবনের অভিজ্ঞতায় ফাপা মেদভুড়ির নাটকীয়তা ও প্রশ্নবিদ্ধ ল্যাব সেশন, হ্যান্ডসাম ফিলো ‪‎রাশেদ‬ ভাইয়ের ভাব গাম্ভীর্য, ঝাঁকড়া চুলের ‪‎শোভন‬ ভাইয়ের লাজুক হাসি Continue reading

সানি লিয়ন এক পর্ণস্টার বটে!

সম্প্রতি সানি লিয়নের বাংলাদেশে আশা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বেশ কানাকানি হচ্ছে দেখছি। সানি লিয়ন যে প্রতিটি মানুষের মনে পৌছে গেছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা :-p। কে এই সানি লিয়ন! আর কেনই বা তাকে নিয়ে এতো আলোচনা! সানি লিয়ন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যানাডিয়ান অভিনেত্রী, বর্তমানে বলিউডের একজন জনপ্রিয় মডেল এবং অভিনেত্রী। তাহলে তার এদেশে আশা নিয়ে এতো মাতামাতি কেন? অতীতে শাহরুখ খান, অরিজিত সিং, দীপিকা পাডুকোন ঘুরে গেছেন তাদের সময় তো এতো উতলা হয়নি। সানি লিয়ন অতীত জীবনে পর্নস্টার বা যৌন অভিনেত্রী ছিলেন, এখানেই মুল সমস্যা। একজন যৌন অভিনেত্রী কেন এই মুসলমানের দেশে আসবে! Continue reading

৫৭ ধারা যেন ব্লাস্ফেমী আইনের প্রতিচ্ছবি!

আজকের বাংলাদেশ এমন একটা জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে যেখানে ন্যায় অন্যায়ের পরিণতি উল্টে গেছে। আজকাল খুন হত্যা ধর্ষন করেও কোন বিচার হয়না অথচ ব্লগে লেখালিখি করলে তার কারাদন্ড হয়, তাকে কুপিয়ে খুন করা হয় এবং সে খুনের কোন বিচার হয়না। লেখালিখি বা বাক-স্বাধীনতার উপর এই অবিচার এবং ব্লগার হত্যাকে হালাল করার জন্য প্রধানত দায়ী বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ৫৭ ধারা। এটাকে এদেশে বাক-স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হাতীয়ার হিসাবে নিচ্ছে কিছু মানুষ। অনেকটা পাকিস্তানের ব্লাস্ফেমী আইনের মত, এটা সুবিধামত ব্যাবহার করছে এদেশের এক বিশেষ গোষ্ঠি। পরিস্থিতি এমন যে কথা বলাটাই এখন পাপ! নাজানি কখন কার অনুভুতিতে লেগে বসে। Continue reading